কোচবিহার, ১৩ সেপ্টেম্বরঃ ভোর তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। টিপটিপ বৃষ্টির মধ্যে সিতাইয়ের বাড়ির সামনে এসে থামল গাড়ি। সঙ্গে পুলিশি নিরাপত্তা। প্রায় চার মাস পর রবিবার ভোর পাঁচটা নাগাদ নিজের বাড়িতে ফিরলেন কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। আর সেই প্রত্যাবর্তন ঘিরেই ফের চর্চায় উত্তরবঙ্গের এই রাজনৈতিক কেন্দ্র।
বাড়ি ফেরা অবশ্য এই প্রথম নয়। গত ১০ অগস্ট রাতেও সিতাইয়ের বাড়িতে এসেছিলেন জগদীশ। কিন্তু সে বার রাতেই ফিরে যেতে হয়েছিল তাঁকে। তার পর উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে দেখা করেন সাংসদ। বিভিন্ন মহলের সঙ্গেও যোগাযোগ ও আলোচনা করেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি। কিন্তু বাড়িতে থেকে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
এর মধ্যেই শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ। সাংসদের দাবি, কোচবিহারের উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয় নিয়েই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তার পর শনিবার সকালে সেই সাক্ষাতের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন জগদীশ। ছবিটি প্রকাশের পর চর্চা শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। তার ঠিক পরের দিনই সিতাইয়ের বাড়িতে সাংসদের প্রত্যাবর্তন সেই জল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রশ্ন উঠছে, এ বার কি তা হলে দীর্ঘ সময়ের জন্য নিজের এলাকায় থাকবেন জগদীশ? গত কয়েক মাস ধরে সিতাইয়ের বাড়িতে সাংসদের অনুপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে নানা আলোচনা চলছিল। মাঝেমধ্যে তাঁর যাতায়াত হলেও স্থায়ী ভাবে বাড়িতে না ফেরায় কৌতূহল ছিল স্থানীয়দের মধ্যেও। সেই আবহেই এ বার ভোরের বৃষ্টিতে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে বাড়ি ফিরলেন তিনি। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর এই সফরের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে।
তবে জগদীশের বাড়ি ফেরার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক সমীকরণের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে তাঁর তরফে কোনও নির্দিষ্ট বক্তব্য সামনে আসেনি। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তার পরেই সিতাইয়ে প্রত্যাবর্তন দুটি ঘটনাকে পাশাপাশি রেখেই আপাতত নানা সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে রাজনৈতিক মহল।
এক দিকে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক, অন্য দিকে নিজের বিধানসভা এলাকায় ফিরে আসা। ফলে প্রশ্ন এখন একটাই এবার কি সিতাইয়ের বাড়িতে থিতু হচ্ছেন সাংসদ? নাকি এটিও সাময়িক যাত্রাবিরতি? উত্তর মিলবে আগামী কয়েক দিনে। আপাতত চার মাস পর জগদীশের বাড়ি ফেরাই সিতাইয়ের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার বিষয়।





