খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২২ জানুয়ারিঃ বাদুড়িয়ায় বসে নিষিদ্ধ ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের হয়ে কাজ করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় বড়সড় রায় দিল বিশেষ এনআইএ আদালত। ধৃত জঙ্গি সৈয়দ মহম্মদ ইদ্রিশ ওরফে মুন্নাকে রাষ্ট্রদোহিতার মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিচারক সুকুমার রায় এই নির্দেশ দেন। এনআইএর আইনজীবী শ্যামল ঘোষ জানান, আদালতে দোষ স্বীকার করায় সব দিক খতিয়ে দেখে ইদ্রিশকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালের মার্চ মাসে। উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া থেকে কলেজছাত্রী তানিয়া পারভিনকে প্রথমে গ্রেপ্তার করে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স। পরে মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তভার নেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। জেরায় উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে জানা যায়,পাকিস্তানের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তানিয়া পারভিন অনলাইনে জেহাদি কার্যকলাপে যুক্ত হয়।
এনআইএর দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক গোপন গ্রুপ তৈরি করে তানিয়া যুবক-যুবতীদের জেহাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত করত। ধীরে ধীরে একটি জেহাদি মডিউল তৈরি হয়, যেখানে অনলাইনের মাধ্যমেই জঙ্গি নিয়োগ চলত। বাদুড়িয়ায় বসেই এই পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত তানিয়া। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই কাশ্মীরের বান্দিপোরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় লস্কর জঙ্গি আলতাফকে। পরে একে একে ধরা পড়ে সৈয়দ মহম্মদ ইদ্রিশ ও আয়েশা ওরফে আয়েশা বুরহান ওরফে আয়েশা সিদ্দিকি।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তানিয়া পারভিন, ইদ্রিশ ও আয়েশার বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয় এনআইএ। ইউএপিএ-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়। তদন্তে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত আয়েশা পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বাসিন্দা এবং গোটা ষড়যন্ত্রে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর মদত ছিল। ভারতে বড়সড় নাশকতার ছক থাকলেও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতায় তা ভেস্তে যায়। ধৃত তিনজনের মধ্যে এবার প্রথম ইদ্রিশের সাজা ঘোষণা করল আদালত।





