হালিশহর, ১০ আগস্টঃ ঘরে ছোট ছোট দুই সন্তান। একজনের বয়স মাত্র ৯, অন্যজন আরও ছোট। স্বামীকে হারানোর পর এক লহমায় বদলে গিয়েছে সংসারের ছবি। শোক সামলে এখন সামনে তাকাতে হচ্ছে জেনি শর্মা কেওটকে। মাথার উপর নেই স্বামীর ছায়া, অথচ দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ তাঁর কাঁধেই। সেই যন্ত্রণার মধ্যেও তাঁর একটাই দাবি স্বামীর মৃত্যুর সুবিচার।
হালিশহরের নিহত তৃণমূল কর্মী বিরজু কুমারের স্ত্রী জেনির কথায়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপর তাঁর আস্থা রয়েছে। সোমবার নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। জেনির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে অ্যাটেনডেন্টের চাকরির ব্যবস্থা। দুই সন্তানের পড়াশোনার জন্য ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু জেনির কাছে এই সাহায্যই শেষ কথা নয়। তাঁর কথায়, ‘‘আমি শুধু আমার স্বামীর মৃত্যুর বিচার চাই।’’
শুক্রবারের সেই রাত এখনও তাঁর চোখের সামনে। রাত ১০টা নাগাদ স্বামীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন জেনি। তখন বিরজু সুস্থ ছিলেন বলেই দাবি তাঁর। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কী ভাবে মৃত্যু হল? সেই প্রশ্নই এখন তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাঁকে। জেনির অভিযোগ, স্বামীর মৃত্যুর জন্য দায়ী পুলিশকর্মীরাই। ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করে সত্যিটা সামনে আনার দাবি তাঁর।
এর আগে রবিবার হালিশহরে গিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ, কাদা ও জুতো ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। শেষ পর্যন্ত বিরজুর বাড়ির কাছে পৌঁছলেও জেনির সঙ্গে দেখা হয়নি মমতার।
কেন ? জেনির জবাব, ‘‘আমি তখন ঘুমোচ্ছিলাম।’’ তবে ভবিষ্যতে মমতা তাঁর বাড়িতে এলে দেখা করবেন কি না, সেই প্রশ্নে স্পষ্ট উত্তর দেননি তিনি।
রাজনীতির চাপানউতোরের বাইরে জেনির লড়াই এখন আরও ব্যক্তিগত। এক দিকে স্বামীর শোক, অন্য দিকে দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ। আর তার মাঝেই তাঁর একটাই প্রত্যাশা বিরজুর মৃত্যুর রহস্যের পর্দা উঠুক, দোষীদের শাস্তি হোক।





