কলকাতা, ২৭ সেপ্টেম্বরঃ ভোটের পর বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। তালিকা থেকে ২৭.১৬ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। সেই বিতর্কেই এবার সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিজেপি বা নির্বাচন কমিশনের একতরফা সিদ্ধান্ত নয়; সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া হয়েছে।
রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দুর বক্তব্য, “২৭ লক্ষ নাম বাদের দায় বিজেপি ও কমিশনের” এই অভিযোগ ঠিক নয়। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মামলাতেই সুপ্রিম কোর্ট এসআইআর-এর শেষ ধাপে যোগ্যতা নির্ধারণের জন্য বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের মাধ্যমে প্রক্রিয়া চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল। প্রায় ৭০০ বিচারবিভাগীয় আধিকারিক ‘অ্যাডজুডিকেশন’-এর আওতায় থাকা ভোটারদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের সিদ্ধান্তে ২৭.১৬ লক্ষ নাম বাদ যায় এবং ৩২.৯ লক্ষ নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।
এই প্রেক্ষিতেই মমতা-তৃণমূলের দাবি বাদ যাওয়া ভোটারদের ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নতুন করে নির্বাচন করা হোক তীব্র কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। কেরলের এসআইআর-এর সঙ্গে বাংলার তুলনা টেনে তাঁর প্রশ্ন, “কেরলে এসআইআর ভাল, পশ্চিমবঙ্গে খারাপ কেন?” তাঁর দাবি, নির্বাচনী ফল মেনে নিতে না পেরেই এসআইআর-কে সামনে আনা হচ্ছে।
তবে এসআইআর ঘিরে আইনি প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাদ পড়া ২৭.১৬ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ২২.২১ লক্ষেরও বেশি পুনর্বহালের আবেদন করেছেন। মোট ৩৮.৩১ লক্ষ আপিল দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে বাদ পড়া ভোটারদের নাম ফেরানোর আবেদনও রয়েছে।
এসআইআর-এর পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বামেদের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও আক্রমণ শানান শুভেন্দু। ‘সিপিএম-তৃণমূলের ভালোবাসা’ বলে কটাক্ষ করে তাঁর দাবি, এসআইআর ইস্যুতেই দুই পক্ষের বক্তব্যে মিল দেখা যাচ্ছে। এম এ বেবির ফোনের প্রসঙ্গ টেনেও মমতাকে নিশানা করেন তিনি।
শনিবার শ্রীরামপুরের সভা থেকে মমতা এসআইআর-সহ একাধিক বিষয়ে বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করেছিলেন। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শুভেন্দুর পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক। ফলে ভোট-পরবর্তী বাংলায় এসআইআর এখন শুধু ভোটার তালিকার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।





