কলকাতা, ২৭ সেপ্টেম্বরঃ ভোটের পর শনিবার প্রথম কলকাতার বাইরে জেলায় জনসভা করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানের সেই সভাকে ঘিরে তৃণমূলের রাজনৈতিক বার্তা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে কম যায়নি পাল্টা আক্রমণও। সভার পরেই মমতার জনসভার ভিড়ের হিসাব তুলে ধরে তৃণমূলের ‘কঠিন সময়’-এর ছবি আঁকার চেষ্টা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দুর দাবি, শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে মমতার সভায় সর্বসাকুল্যে প্রায় ৫০০ জনের মতো মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের বড় অংশই পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের কর্মী বলে দাবি করেন তিনি। যদিও সভার উপস্থিতির এই পরিসংখ্যানের কোনও স্বাধীন যাচাই মেলেনি।
মমতার সভায় এসআইআর প্রসঙ্গ এবং বামেদের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও আক্রমণ শানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, এক সময় যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিপিএমের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ের মুখ হয়ে উঠেছিলেন, তিনিই এখন এসআইআর ইস্যুতে সিপিএমের সঙ্গে একই সুরে কথা বলছেন। শুভেন্দুর অভিযোগ, ‘ক্ষয়িষ্ণু’ সিপিএম এবং তৃণমূল পরস্পরের হাত ধরেছে।
শ্রীরামপুরের সভার সঙ্গে রেজিনগরের প্রসঙ্গও টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, মমতার বক্তব্যের সঙ্গে সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিমের বক্তব্যেরও মিল রয়েছে। সেলিমের নির্বাচনী পরাজয়ের প্রসঙ্গ তুলে তাঁকে কটাক্ষও করেন শুভেন্দু।
এর পাশাপাশি তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দলের নাম ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে পরিবর্তন, প্রতীক ঘিরে পরিবর্তন এবং দলীয় বিভাজনের জেরে সাধারণ মানুষের কাছে তৃণমূলের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের প্রচারকেও নিশানা করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, মানুষের দেওয়া ‘বিপুল ম্যান্ডেট’কে প্রশ্নের মুখে ফেলতেই এসআইআর নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। আবাস যোজনা, সামাজিক সুরক্ষা, নিয়োগ, কয়লা-বালি ও গবাদি পশু পাচার-সহ একাধিক বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর দাবি, তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের মতো বিষয় থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই এসআইআর-কে সামনে আনা হচ্ছে।
অন্য দিকে, শনিবারের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআর-সহ একাধিক রাজনৈতিক ও জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে নিজের বক্তব্য রেখেছেন। ফলে ভোট-পরবর্তী বাংলায় তৃণমূলের প্রথম বড় জেলা-সভাকে ঘিরে মঞ্চের বক্তব্য শেষ হলেও রাজনৈতিক চাপানউতোর যে থামছে না, শুভেন্দুর পাল্টা আক্রমণেই তার ইঙ্গিত মিলেছে।





