মালদা, ৭ এপ্রিলঃ আজ ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের দিনে এক মানবিক উদ্যোগের সাক্ষী থাকল মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। নির্বাচনমুখী ব্যস্ততার মাঝেই হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে তৈরি হওয়া তীব্র রক্ত সংকট কাটাতে এগিয়ে এলেন চিকিৎসক, নার্সিং স্টাফ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। মঙ্গলবার আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরে অংশ নিয়ে শতাধিক কর্মী রক্তদান করেন, যা সাময়িকভাবে হলেও সংকট কিছুটা লাঘব করেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হয়। শুধু হাসপাতালের রোগীদের জন্যই নয়, অন্যান্য সরকারি হাসপাতাল এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বাইরেও রক্ত সরবরাহ করা হয়। ফলে রক্তের চাহিদা সর্বদাই বেশি থাকে। তবে গত এক মাস ধরে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ব্যস্ত থাকায় স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর জেরেই ব্লাড ব্যাংকে চরম সংকট দেখা দেয়।
এই পরিস্থিতিতে উদ্যোগ নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই। এদিনের শিবিরে অংশ নেন হাসপাতালের ভাইস প্রিন্সিপাল ডাঃ প্রসেনজিৎ বর সহ বহু সিনিয়র ও জুনিয়র চিকিৎসক এবং নার্সিং স্টাফ। তাঁদের এই উদ্যোগে দ্রুত সাড়া মেলে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে রক্তদান করেন বহু কর্মী।
ডাঃ প্রসেনজিৎ বর জানান, “আজকের শিবিরে শতাধিক চিকিৎসক, নার্সিং স্টাফ রক্ত দিয়েছেন। এইভাবে সবাই এগিয়ে এলে রক্তের সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। মুমূর্ষ রোগীদের চিকিৎসাতেও আর সমস্যা হবে না।” একইসঙ্গে নার্স ইনচার্জ রুমেলী সাহাও জানান, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ আকারে আয়োজন করা হবে।
চিকিৎসকদের এই মানবিক উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে বিভিন্ন মহলে। নির্বাচনমুখী ব্যস্ততার মধ্যেও স্বাস্থ্য পরিষেবার গুরুত্ব যে কতটা, তা এই ঘটনাই আবারও প্রমাণ করল। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত রক্তদান শিবির না হলে এই ধরনের সংকট বারবার তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে মালদা মেডিকেল কলেজের এই উদ্যোগ শুধু রক্ত সংকট মোকাবিলাতেই নয়, সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।





