খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৫ জানুয়ারিঃ মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে রাতে ঘরে কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমানো বহু পরিবারেরই নিত্যদিনের অভ্যাস। কিন্তু এই সামান্য অভ্যাসই যে অজান্তে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করছে, সে বিষয়ে এবার গুরুতর সতর্কবার্তা দিলেন চিকিৎসকরা। মেদান্তা হাসপাতালের বিশিষ্ট বক্ষ বিশেষজ্ঞ ডঃ হর্ষ বর্ধন পুরীর মতে, বন্ধ ঘরে একটি মশার কয়েল জ্বালানো প্রায় ১০০টি সিগারেট খাওয়ার সমান দূষণ সৃষ্টি করে, যা মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
চিকিৎসকের ব্যাখ্যায় উঠে এসেছে, আমরা সাধারণত বাইরের ধুলোবালি ও দূষণ থেকে বাঁচতে জানলা-দরজা বন্ধ করে রাখি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ঘরের ভেতরের বাতাস অনেক সময় বাইরের বাতাসের থেকেও বেশি ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। মশার কয়েল, ধূপকাঠি, এমনকি রান্নার সময় উৎপন্ন ধোঁয়া থেকেও সূক্ষ্ম বিষাক্ত কণা নির্গত হয়। এই ক্ষুদ্র কণাগুলি বাতাসের সঙ্গে মিশে সরাসরি মানুষের ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে।
ডঃ পুরী জানান, রাতে ঘুমের সময় মানুষ টানা ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা এই দূষিত বাতাস গ্রহণ করে। এর ফলে ফুসফুসের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ে এবং ধীরে ধীরে অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। হাঁপানি, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি ও ফুসফুসের নানা রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
অনেকেই মনে করেন ঘরে ইনডোর প্ল্যান্ট রাখা বা এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করলে এই সমস্যার সমাধান হবে। তবে চিকিৎসকের মতে, এসব ব্যবস্থার কার্যকারিতা অত্যন্ত সীমিত এবং কয়েল থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া পুরোপুরি দূর করতে এগুলি যথেষ্ট নয়।
তাই বিশেষজ্ঞরা মশা তাড়াতে কয়েলের পরিবর্তে মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। পাশাপাশি ঘরের ভেতরে পর্যাপ্ত হাওয়া চলাচলের ব্যবস্থা রাখা, জানলা খুলে রাখা ও ভেন্টিলেশনের উপর জোর দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে। সচেতনতা ও সঠিক অভ্যাসই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি এমনটাই মনে করছেন চিকিৎসক মহল।





