কলকাতা, ২৬ মেঃ ফলতা বিধানসভার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান-এর উপর আরও চাপ বাড়ল। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচের মেয়াদ আর বাড়াল না। বিচারপতি পার্থ সারথি সেন-এর বেঞ্চে শুনানির পর জাহাঙ্গিরের দুটি অন্তর্বর্তী মামলার রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হয়। ফলে তাঁর গ্রেপ্তারিতে আর কোনও আইনি বাধা রইল না।
এর আগে একাধিক মামলায় অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন জাহাঙ্গির খান। ভোটের আগে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তিনি সেই সুরক্ষা আদায় করেছিলেন। তবে মঙ্গলবারের শুনানিতে আদালত প্রশ্ন তোলে, প্রার্থী হিসেবে যে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল, ভোট শেষ হওয়ার পর তা কেন বহাল থাকবে?
আদালতের পর্যবেক্ষণে বিচারপতি পার্থ সারথি সেন বলেন, “পুলিশ যখন মামলা রুজু করেছে, তখন তদন্ত তো হবেই। যদি পুলিশি রিপোর্টে অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাই, তাহলে তা আপনার মক্কেলের পক্ষে ভালো হবে না।” আদালতের এই মন্তব্যের পরই রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়, তদন্তে সহযোগিতা করবেন এই শর্তেই জাহাঙ্গির খানকে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি বর্তমানে বাড়িতে নেই এবং তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়েও তাঁকে খুঁজে পায়নি বলে আদালতে দাবি করা হয়। এমনকি তাঁর নামে জেনারেল ডায়েরিও করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
অন্যদিকে জাহাঙ্গিরের আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতের কাছে জবাব দেওয়ার জন্য সময় চান। তবে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি।
উল্লেখ্য, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন জাহাঙ্গির খান। ভোটের আগে নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে পরিচয় দিয়ে তিনি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনায় উঠে এসেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তিনি কার্যত আড়ালে চলে যান। ফলতায় তৃণমূলের জমানত জব্দ হওয়ার পর রাজনৈতিক চাপও বাড়তে থাকে তাঁর উপর।
বর্তমানে জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা দায়ের রয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে। সেই সমস্ত মামলাতেই তিনি আগাম গ্রেপ্তারি এড়াতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে এবার হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে তাঁর আইনি সুরক্ষা পুরোপুরি সরে গেল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এখন জাহাঙ্গির খানের গ্রেপ্তারি শুধুই সময়ের অপেক্ষা।





