মনিরুল হক, কোচবিহারঃ কোচবিহারের নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের আরএমপির মাঠে জনসভা থেকে মঙ্গলবার তীব্র ভাষায় কেন্দ্র সরকার ও নরেন্দ্র মোদী-কে আক্রমণ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির ধর্মীয় রাজনীতির কৌশল নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, রাজনৈতিকভাবে লড়াই করতে না পেরে ভারতীয় জনতা পার্টি ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তাঁর বক্তব্য, “যারা নিজেদের হিন্দু ধর্মের ধারক-বাহক বলে দাবি করে, তারা আসলে ভোটের সময় ধর্মকে ঢাল করে।”
গত ৫ এপ্রিল কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা প্রসঙ্গেও তোপ দাগেন তিনি। অভিষেকের অভিযোগ, সভাস্থলের একেবারে কাছেই অবস্থিত কোচবিহারের আরাধ্য দেবতা মদনমোহন মন্দির, অথচ সেখানে পুজো দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী কোনও উদ্যোগ নেননি। তাঁর কথায়, “আমাদের সবার উচিত কোচবিহারে পা রাখলেই মদনমোহন মন্দিরে গিয়ে প্রণাম করা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ধর্মের কথা বললেও সেই অনুভূতিটুকু দেখালেন না।”
এই প্রসঙ্গে আরও একধাপ এগিয়ে গিয়ে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যদি প্রমাণ করতে পারেন যে কোচবিহারের কোনও গরিব মানুষের অ্যাকাউন্টে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের এক পয়সাও ঢুকেছে, তাহলে আমি রাজ্যের কোথাও আর প্রচার করতে যাব না।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোড়ন ফেলেছে।
এদিন তৃণমূল কংগ্রেস-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তাঁর বক্তব্যে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, গত ১২ বছরে কেন্দ্র কী উন্নয়নমূলক কাজ করেছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হোক।
অভিষেক তাঁর বক্তব্যে মনে করিয়ে দেন, কয়েকদিন আগেই শীতলকুচির সভা থেকে তিনি একই দাবি তুলেছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলাম, গত ১২ বছরে কতজন মানুষের বাড়ি তৈরি হয়েছে, কত কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তা হয়েছে এবং ১০০ দিনের কাজের টাকা কতজনের অ্যাকাউন্টে পৌঁছেছে তার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করুন।” তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কোচবিহারের সাধারণ মানুষের জন্য কোনও আর্থিক সহায়তা বাস্তবে পৌঁছায়নি।
এই ইস্যুতে অভিষেকের মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলা, অন্যদিকে ধর্মীয় ইস্যুতে বিজেপিকে চাপে ফেলার কৌশল দুই দিক থেকেই চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছে তৃণমূল।
উল্লেখ্য, আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে সামনে রেখে কোচবিহার জেলা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত। একাধিক জনসভা, পাল্টা অভিযোগ এবং প্রচারের ঝড়ে জমে উঠেছে ভোটের লড়াই। এই প্রেক্ষাপটে নাটাবাড়ির সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক তরজা উসকে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে কেন্দ্র বনাম রাজ্যের সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে। এখন দেখার, এই চ্যালেঞ্জ ও পাল্টা অভিযোগের রাজনীতিতে শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কোন পক্ষকে সমর্থন করেন।





