কৃষ্ণনগর, ১৩ সেপ্টেম্বরঃ দীর্ঘক্ষণ বন্ধ বাথরুমের দরজা। বাইরে থেকে বার বার ধাক্কা, ডাকাডাকি তবু ভিতর থেকে কোনও সাড়া নেই। শেষ পর্যন্ত দরজা ভাঙতেই মিলল চাঞ্চল্যকর দৃশ্য। সিলিং থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় এক রোগীকে দেখতে পেলেন হাসপাতালের কর্মীরা। রবিবার সকালে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়।
মৃতের নাম তপন ঘোষ (৬০)। কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার অঞ্জনাপাড়া এলাকার বাসিন্দা তিনি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে স্নায়ুজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তপন। শনিবার সকালে তিনি বিষ খেয়েছিলেন বলে পরিবারের দাবি। অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে দ্রুত শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তার পরের দিনই হাসপাতালের বাথরুম থেকে উদ্ধার হল তাঁর ঝুলন্ত দেহ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে তপন নিজেই বেড থেকে উঠে বাথরুমের দিকে যান। তার পর বেশ কিছুটা সময় কেটে গেলেও তিনি ফিরে না আসায় সন্দেহ হয়। আশপাশের রোগীদের দাবি, দীর্ঘক্ষণ তাঁকে দেখা যাচ্ছিল না। বাথরুমের দরজাও ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। হাসপাতালের কর্মীরা দরজায় ধাক্কা দিয়ে সাড়া পাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনও প্রতিক্রিয়া না মেলায় শেষ পর্যন্ত দরজা ভাঙা হয়।
দরজা খুলতেই দেখা যায়, সিলিং থেকে ঝুলছেন তপন। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর দেওয়া হয় কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায়। পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করে। কী ভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে ওই রোগীর মৃত্যু হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রের প্রাথমিক বক্তব্য, ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর পিছনে অন্য কোনও বিষয় ছিল কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। শনিবার বিষপানের যে দাবি পরিবার করেছে, তার সঙ্গে পরের দিনের ঘটনাটির কোনও প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এক দিকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, অন্য দিকে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে হাসপাতালেরই বাথরুম থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার পরপর এই ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়েও। তবে সেই প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।
কেন তপন বাথরুমে গিয়েছিলেন, সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল এবং তাঁর মৃত্যুর আগে কোনও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কি না এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।





