খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৯ জানুয়ারিঃ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নদীয়ার তাহেরপুরে ‘রণ সংকল্প সভা’ থেকে বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক, নাগরিকত্ব, সিএএ থেকে শুরু করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রের মোদী সরকার ও রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। অভিষেকের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “হয় নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দিন, না হলে মোদী গদি ছাড়ুন। অমিত শাহ, শান্তনু ঠাকুর গদি ছাড়ো।”
এদিনের সভায় অভিষেকের বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল মতুয়া ভোট ও সিএএ প্রসঙ্গ। শান্তনু ঠাকুরের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রতিশ্রুতিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “যাদের ভোটে আপনারা জিতেছেন, তাঁদেরই অবৈধ বলছেন। ১০ বছর আগে নোটবন্দির লাইনে দাঁড় করিয়েছেন, এবার ভোটবন্দির লাইনে দাঁড় করিয়েছেন।” প্রয়াত বড়মা বীণাপাণি দেবীর প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, বড়মা বেঁচে থাকলে বিজেপিকে সমর্থন করতেন কি না।
বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগও তোলেন অভিষেক। মঞ্চে তিনজন ব্যক্তিকে হাজির করে তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের খাতায় তাঁদের ‘মৃত’ দেখানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “আগে মানুষ সরকার বাছত, এখন সরকার ঠিক করছে কে ভোট দেবে।” পাশাপাশি ইডি-সিবিআই দিয়ে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টার অভিযোগও করেন তিনি।
বাংলা সংস্কৃতি নিয়ে বিজেপি নেতাদের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে অভিষেক বলেন, রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র বা পঞ্চানন বর্মার নাম-জন্মস্থান নিয়েও তাঁরা বিভ্রান্ত। গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে এক প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধরের ঘটনার নিন্দা করে তিনি বলেন, “এটাই কি বাংলার সংস্কৃতি?”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে অভিষেক বলেন, “রানাঘাট-বনগাঁর রাস্তা করেছেন মমতা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিচ্ছেন মমতা।” আত্মবিশ্বাসের সুরে তাঁর দাবি, “আমাদের কাছে মানুষ আছে। খেলা হবে ১০-০ গোলে।”





