খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৬ জানুয়ারিঃ রামপুরহাটের সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বার্তা দিলেন “যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা। এবারে বীরভূমে ১০ নয়, ১১-শূন্য করতে হবে।” কপ্টার জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দু’ঘণ্টা পরে সভাস্থলে পৌঁছলেও বক্তব্যের শুরুতেই অপেক্ষার জন্য কর্মী-সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চান তিনি।
অভিষেক বলেন, “সকাল সাড়ে আটটা-ন’টা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত আপনারা আমার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। তারও আগে বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন। দেরির জন্য দুঃখিত।” এরপরই দেরির কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও এসআইআর-এর তত্ত্বাবধানে কার্যত নির্বাচন কমিশনের ‘দামামা’ বেজে গিয়েছে। তাঁর দাবি, পরিকল্পিত চক্রান্ত করে সভা বানচাল করার চেষ্টা হয়েছিল।
বিজেপিকে সরাসরি নিশানা করে অভিষেক বলেন, “বিজেপির জমিদারদের যত জেদ, তার দশগুণ জেদ আমার। তাই বুদ্ধি খাটিয়ে পাশের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের হেলিকপ্টার ভাড়া করে এলাম। দু’ঘণ্টা দেরি হলেও মানুষের কাছে এসে পৌঁছেছি।” এই বক্তব্যে সভাস্থলে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
এরপরই এসআইআর ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে এক বন্ধনীতে রেখে তীব্র কটাক্ষ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “অমর্ত্য সেন, যিনি দেশের নাম বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছেন, তাকেও এসআইআর-এর নোটিস পাঠানো হয়েছে। অভিনেতা দেব, ক্রিকেটার মহম্মদ শামি যাঁরা দেশকে গর্বিত করেছেন, তাঁদেরও নোটিস দিয়ে আনম্যাপড করার চেষ্টা চলছে।” তাঁর অভিযোগ, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
পরিযায়ী শ্রমিক সোনালি বিবির প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, “এই মাটির মেয়ে সোনালি খাতুনকে বাংলাদেশি বলে জোর করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। হাইকোর্ট-সুপ্রিমকোর্টে লড়াই করে তৃণমূলের সৈনিকরাই তাঁকে ফিরিয়ে এনেছে। গতকাল সে ফুটফুটে সন্তানের জন্ম দিয়েছে। আজ আমি রামপুরহাটে গিয়ে ওকে দেখতে যাব।”
ভোটারদের আশ্বস্ত করে অভিষেক বলেন, “৩১ তারিখ আমরা দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলাম। আমাদের প্রশ্নের সদুত্তর ওরা দিতে পারেনি। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা ফর্ম ৬ পূরণ করে জমা দিন। ভয় পাওয়ার কিছু নেই, তৃণমূল আপনাদের সঙ্গে আছে।”
বিজেপিকে মাঠে-ময়দানে অনুপস্থিত বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। বলেন, “কোনও অসুবিধায় বিজেপি কর্মীদের পাশে পাওয়া যায়? অনুবীক্ষণ যন্ত্রে খুঁজলেও পাওয়া যাবে না। আগে যারা সিপিএম করত, তারাই এখন বিজেপি করছে শুধু জার্সি বদলেছে।”
শেষে কর্মীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে অভিষেক বলেন, “এক ছটাক জমিও ছাড়বেন না। যে বুথে গতবার ৫০ লিড ছিল, সেখানে ৫১ করতে হবে।” সভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, “কেষ্টদা মায়ের কাছে ২৩০ আসনের কথা বলেছে, আমি আরও বাড়িয়ে বলছি এবারে ২৫০ আসন চাই।”





