আবহাওয়া আইপিএল-2025 টাকা পয়সা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ার বাজার মিউচুয়াল ফান্ড আধ্যাত্মিক অন্যান্য

---Advertisement---

খড়ের চালের ঘর থেকে লালকেল্লা, ‘বিকশিত ভারত’-এর প্রবন্ধে আমন্ত্রণ সেলিমার, পাশে দাঁড়ালেন বিধায়ক

Published on: August 14, 2026
---Advertisement---

সুন্দরবন, ১৪ আগস্টঃ  খড়ের চাল, মাটির ঘর। সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী। সেই ঘর থেকেই ৫০০ শব্দের একটি প্রবন্ধ লিখে পৌঁছে দিয়েছিল নবম শ্রেণির ছাত্রী সেলিমা মোল্লা। বিষয় ‘বিকশিত ভারত’। সেই লেখাই তাকে পৌঁছে দিল দিল্লির লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের দোরগোড়ায়। কিন্তু আমন্ত্রণ এলেও দিল্লি যাওয়ার সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। শেষ মুহূর্তে পাশে দাঁড়ালেন ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশ রাম দাস।

বাসন্তীর ফুল মালঞ্চ গ্রামের ঋতুভগত হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী সেলিমা। দরিদ্র পরিবার হলেও মেয়ের পড়াশোনায় কোনও খামতি রাখেননি বাবা-মা। ‘বিকশিত ভারত’ নিয়ে প্রবন্ধ লিখে নির্দিষ্ট জায়গায় পাঠিয়েছিল সেলিমা। কিছু দিন পরেই খবর আসে, তার লেখা প্রশংসিত হয়েছে। ১৫ অগস্ট লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণও আসে বাড়িতে।

তার পরেই আনন্দের বদলে শুরু হয় দুশ্চিন্তা। দিল্লি যাওয়ার বিমানভাড়া, থাকা-খাওয়া সব মিলিয়ে বিপুল খরচ। সামান্য আয়ে সংসার চালানো পরিবারের পক্ষে সেই টাকা জোগাড় করা কার্যত অসম্ভব। ফলে শেষ পর্যন্ত দিল্লি যাওয়া হবে কি না, তা নিয়েই সংশয়ে পড়েছিল সেলিমার পরিবার।

সেই খবর পৌঁছয় বিধায়ক পরেশ রাম দাসের কাছে। এরপর আর দেরি করেননি তিনি। নিজের বিধায়ক বেতনের টাকা থেকে সেলিমার বিমানযাত্রার ব্যবস্থা করেন। দিল্লিতে থাকার জন্য দেওয়া হয় ১০ হাজার টাকা নগদ। প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্রের ব্যবস্থাও করা হয়।

শুক্রবার সকালে নিজের গাড়িতে করে সেলিমাকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেন বিধায়ক। সেখান থেকে বিমানে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেয় ওই কিশোরী। বিমানে ওঠার পর আনন্দে ছবিও তোলে সে। দিল্লি পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথাও বলে।

বিধায়ক বলেন, ‘‘সংবাদমাধ্যম থেকে জানতে পারি, আমাদের সুন্দরবনের ছাত্রী আমন্ত্রণ পেয়েও আর্থিক কারণে যেতে পারছে না। তার পরেই সমস্ত ব্যবস্থা করি।’’

আর সেলিমার মুখে তখন একটাই কথা ‘‘প্রবন্ধ লিখে লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। বিধায়ক পাশে এসে দাঁড়ানোতেই দিল্লি পৌঁছতে পারলাম।’’ মাটির ঘর থেকে লালকেল্লা সেলিমার এই যাত্রা যেন স্বপ্ন ছোঁয়ারই গল্প।

Manirul Hoque

Manirul Hoque is working as Sub Editor. Presently he is attached with Khaboriya24 Online News Portal. Manirul is involved in Copy Editing, Uploading in website.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment