বাঁকুড়া, ২৯ জুলাইঃ তৃণমূল সরকারের আমলের একটি নাবালিকার রহস্যমৃত্যুর মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি সুব্রত দত্ত। অসুস্থ বাবাকে দেখতে বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। সেখান থেকেই মঙ্গলবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পাত্রসায়র থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মার্চ মাসে পাত্রসায়র এলাকায় এক নাবালিকার রহস্যমৃত্যুর ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, তৎকালীন তৃণমূল সরকারের আমলে মৃতার পরিবারকে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, ময়নাতদন্ত ছাড়াই দেহ দাহ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। মৃতার পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গোটা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় সুব্রত দত্ত এবং তাঁর স্ত্রী পূরবী দত্ত মল্লিকের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠে। পূরবী বর্তমানে পাত্রসায়র পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মামলার নতুন করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয় রোহিত মল্লিক ও তাঁর মা রুম্পা মল্লিককে। পরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পূরবী দত্ত মল্লিক এবং শেষ পর্যন্ত সুব্রত দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই পলাতক ছিলেন সুব্রত। বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েও তাঁর খোঁজ মেলেনি। অবশেষে অসুস্থ বাবাকে দেখতে বাড়িতে ফিরতেই তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ। বুধবার আদালতে তোলার সময় আদালত চত্বরে বিক্ষোভও দেখা যায়। হাতে ডিম নিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান কয়েক জন। যদিও কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
বিষ্ণুপুর মহকুমার পুলিশ আধিকারিক অঞ্জলি সুগা জানান, তদন্তে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে নতুন তথ্য মিলেছে। সেই সূত্রেই একের পর এক গ্রেপ্তারি হয়েছে। গোটা ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।





