মুর্শিদাবাদ, ৩ অক্টোবরঃ আচমকাই বাড়িতে আগুন। সেই সময় বাড়ির ভিতরেই ছিলেন সাগরদিঘির বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস। অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর ভাবে দগ্ধ হয়েছেন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের এই বিধায়ক। শনিবার সামশেরগঞ্জের ধূলিয়ানে তাঁর বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। প্রথমে নিজের মালিকানাধীন একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করানো হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে তাঁকে। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
ঠিক কী ভাবে বাড়িতে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় বায়রন বাড়িতেই ছিলেন। আগুন দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়েরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় তাঁকে মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বায়রনের অগ্নিদগ্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুর্শিদাবাদে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। রাজনৈতিক মহলেও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন এবং বিধায়কের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
রাজনীতিতে বায়রনের উত্থানও ছিল আলোচিত। ২০২৩ সালের সাগরদিঘি উপনির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে তৎকালীন শাসকদলের প্রার্থীকে পরাজিত করে রাজ্য রাজনীতিতে নজর কেড়েছিলেন তিনি। পরে তৃণমূলে যোগ দেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও সাগরদিঘি থেকে জয় পান তিনি। পরবর্তীতে তৃণমূলের বিভাজনের আবহে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হয়।
এই রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেই আচমকা বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনা। তবে অগ্নিকাণ্ডের পিছনে কোনও রাজনৈতিক কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে আসেনি। কী ভাবে আগুন লাগল, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। আপাতত মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন বিধায়ক। তাঁর শারীরিক অবস্থার দিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে তাঁর অনুগামীদের।





