কলকাতা, ২৩ সেপ্টেম্বরঃ সকাল তখন সবে গড়াচ্ছে। দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ এবং নিউ আলিপুরে একসঙ্গে পৌঁছে গেলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা। সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তার পর শুরু তল্লাশি। বুধবার শহরের একাধিক জায়গায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র এই অভিযানে নতুন করে চর্চায় এল আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, বিদেশি মুদ্রা বিনিময়ের ব্যবসাকে সামনে রেখে বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম ও তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। সেই সূত্রেই বালিগঞ্জ ও নিউ আলিপুরে দুই ব্যবসায়ীর বাড়ি এবং অফিসে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট সংস্থার নথিপত্র, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং আর্থিক লেনদেনের খতিয়ান খতিয়ে দেখছেন বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
শুধু কলকাতা নয়, একই সঙ্গে দেশের অন্য প্রান্তেও তল্লাশি চলছে। ইডির অভিযান মোট ১৭টি জায়গায় চালানো হচ্ছে বলে প্রকাশিত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র। বিদেশি মুদ্রা বিনিময়ের আড়ালে কোনও বড় আর্থিক চক্র কাজ করছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
এ দিনের অভিযানে মূলত নথি এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহের দিকেই নজর তদন্তকারীদের। অভিযোগের সত্যতা কী, বিপুল অর্থের কোনও অংশ বিদেশে পাচার হয়েছিল কি না, কিংবা এই লেনদেনের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত তল্লাশি শেষে সেই প্রশ্নগুলির উত্তর স্পষ্ট হতে পারে।
কলকাতায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ইডির ধারাবাহিক তৎপরতার মধ্যে এ দিনের অভিযানও তাৎপর্যপূর্ণ। চলতি মাসেই শহর ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাঙ্ক জালিয়াতি, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং চিটফান্ড-সহ একাধিক মামলায় তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।
তবে এ দিনের অভিযানে এখনও পর্যন্ত কী কী নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে তল্লাশি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তদন্তের পরবর্তী গতিপথ নিয়ে অপেক্ষা থাকছেই।





