কলকাতা, ২৩ সেপ্টেম্বরঃ ফোনের ওপারে পুলিশ বা কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিক। কখনও ভিডিয়ো কল, কখনও জেরা। ভয় দেখিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ‘অনলাইনে বন্দি’ করে রাখা। তার পর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে দফায় দফায় টাকা হাতিয়ে নেওয়া। সাইবার প্রতারণার এই নতুন কৌশল, ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর অভিযোগ এ বার পৌঁছল কলকাতা হাই কোর্টে। নরেন্দ্রপুরের একটি মামলায় প্রায় ২ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিল আদালত।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে জয়শ্রী রামকৃষ্ণন ও অন্য এক আবেদনকারীর মামলার শুনানি ছিল। আবেদনকারীদের অভিযোগ, নিজেদের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিক পরিচয় দিয়ে অভিযুক্তেরা তাঁদের ডিজিটাল মাধ্যমে দীর্ঘ সময় আটকে রাখে। বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে কার্যত গৃহবন্দির পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। এর পর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে দফায় দফায় বিপুল টাকা সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
মামলার শুনানিতে আবেদনকারীদের আইনজীবীরা আদালতের নজরে আনেন, ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-সহ জটিল সাইবার প্রতারণার ঘটনায় তদন্তের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে। সেই যুক্তিতেই নরেন্দ্রপুর থানায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।
সওয়াল-জবাবের পর মামলার তদন্তভার সিবিআইকে দেওয়ার নির্দেশ দেয় হাই কোর্টের একক বেঞ্চ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী সাত দিনের মধ্যে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশকে মামলার সমস্ত নথি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দিতে হবে।
এর মধ্যে রয়েছে এফআইআর, তদন্তের নথিপত্র এবং বাজেয়াপ্ত করা ডিজিটাল প্রমাণের ফাইলও। অর্থাৎ, মামলাটির তদন্তে এখন থেকে সাইবার প্রতারণার জাল কত দূর বিস্তৃত, টাকা কোথায় কোথায় গিয়েছে এবং এই ঘটনায় আর কারা যুক্ত সেই প্রশ্নগুলিও খতিয়ে দেখবে সিবিআই।
ভিডিয়ো কলের ওপারে ‘গ্রেফতারি’, ‘মামলা’, ‘জেরা’ এমন নানা ভয় দেখিয়ে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ বার বার সামনে আসছে। নরেন্দ্রপুরের এই মামলায় আদালতের তদন্তভার বদলের নির্দেশ সেই ধরনের অভিযোগের গুরুত্বকেই আরও এক বার সামনে আনল।





