খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৩ ফেব্রুয়ারিঃ রাজ্যে ফের সক্রিয় হয়ে উঠল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মঙ্গলবার ভোর থেকেই কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের মোট ৯টি জায়গায় একযোগে অভিযান চালাচ্ছে ইডি। কয়লা পাচার চক্র সংক্রান্ত তদন্তকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতেই এই তল্লাশি অভিযান বলে ইডি সূত্রে খবর। শুধু বাংলা নয়, একই সঙ্গে দিল্লির কয়েকটি জায়গাতেও ইডির একটি দল তল্লাশি শুরু করেছে।
এদিন ভোরে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন ইডি আধিকারিক ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা পশ্চিম বর্ধমান জেলার নবগ্রাম এলাকায় পৌঁছন। সূত্রের দাবি, ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ECL) এলাকায় বেআইনি কয়লা উত্তোলন এবং সেই কয়লা পাচারের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান। একই সঙ্গে কলকাতা, আসানসোল, দুর্গাপুর, পাণ্ডবেশ্বর-সহ একাধিক জায়গায় চলছে তল্লাশি।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাসে উদ্ধার হওয়া নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে কয়লা পাচার মামলায় একাধিক ব্যবসায়ীর নাম উঠে এসেছে। তাঁদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা এখনও পর্যন্ত ৯ জন সন্দেহভাজনের একটি তালিকা তৈরি করেছেন।
দুর্গাপুরে বালি ব্যবসায়ী প্রবীর দত্তের বিলাসবহুল বাড়িতে অভিযান ঘিরে তৈরি হয় নাটকীয় পরিস্থিতি। অভিযোগ, ইডি আধিকারিকরা সেখানে পৌঁছলে প্রথমে তাঁদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যে বাড়ির দরজা খুলে তল্লাশি শুরু হয়। প্রবীর দত্তের ভাইয়ের বাড়িতেও একসঙ্গে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের দাবি, সম্প্রতি প্রবীর দত্ত বিদেশ সফরেও গিয়েছিলেন, সেই আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কয়লা পাচার মামলায় এর আগেও আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে অভিযান চালিয়েছিল ইডি। সেই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ ঘিরে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। আজ, মঙ্গলবার সেই আইপ্যাক মামলার শুনানি রয়েছে শীর্ষ আদালতে। তার ঠিক আগের দিন কয়লা পাচার মামলায় নতুন করে ইডির এই তৎপরতা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।





