কলকাতা, ১৯ আগস্টঃ পেটের টানে ঝাড়খণ্ড থেকে কলকাতায় এসেছিলেন। কাজ পেয়েছিলেন নিউ মার্কেটের একটি হোটেলে। মাস তিনেকের মধ্যেই ভেবেছিলেন, নতুন শহরে নিজের পায়ে দাঁড়াবেন। কে জানত, বছর ঘোরার আগেই সেই কলকাতা থেকেই বাড়ি ফিরতে হবে নিথর দেহ হয়ে! নিউ মার্কেটের ‘শিখা ইন’-এর ভয়াবহ আগুন প্রাণ কেড়ে নিল ১৯ বছরের সন্দীপ পাসওয়ানের। বুধবার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের জরুরি বিভাগের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তাঁর কাকা সীতারাম ও দাদা।
ঝাড়খণ্ডের গিরিডির বাসিন্দা সন্দীপ পড়াশোনা ছেড়ে কাজের খোঁজে বাড়িতে ছিলেন। মাস তিনেক আগে নাগেরবাজারের বাসিন্দা কাকা সীতারাম তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসেন। কাজ মেলে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে। ঝাড়ু দেওয়া, সাফাই-সহ নানা কাজ করতেন তরুণ। মঙ্গলবার রাতেও অন্য দিনের মতো হোটেলেই ছিলেন তিনি।
রাত পৌনে ২টো নাগাদ বিপদ। বহুতলের তিনতলায় আগুন লাগে। মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে লেলিহান শিখা। চারদিকে ঘন কালো ধোঁয়া। বেরোনোর চেষ্টা করেছিলেন সন্দীপ। কিন্তু সংকীর্ণ সিঁড়ি আর ধোঁয়ার দাপটে সেই পথও বন্ধ হয়ে যায়। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।
খবর পেয়েই রাত তিনটে নাগাদ বাড়ি থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন সীতারাম। বুধবার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে এসে ভাইপোর দেহ শনাক্ত করেন তিনি। চোখের জল মুছতে মুছতে কাকা বললেন, ‘‘ওর বাবা মারা গিয়েছেন বছর চারেক আগে। ছেলেটার কাজের দরকার ছিল। তাই নিয়ে এসেছিলাম। এমন খবর পাব ভাবিনি।’’
সীতারামের দাবি, হোটেলে ফ্রিজের পাশে ঘুমোতেন সন্দীপ। তাঁর শুনতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফ্রিজের কম্প্রেসার থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। ভাইপোর মুখ ও বুকে কিছুটা ঝলসে গিয়েছিল বলেও জানান তিনি।
যে ছেলেকে কাজের আশায় কলকাতায় নিয়ে এসেছিলেন কাকা, শেষ পর্যন্ত তাঁরই কাঁধে উঠল সেই ছেলের দেহ। পেটের দায়ে শহরে আসা সন্দীপের স্বপ্নের কলকাতা তাই এক রাতেই হয়ে গেল মৃত্যুর শহর।





