মনিরুল হক, কোচবিহার: ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোচবিহারে শক্তি প্রদর্শন করল তৃণমূল কংগ্রেস। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এক মেগা রোড শো কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এদিন কোচবিহার শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত মানুষের ঢল চোখে পড়ে, যা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
রোড শো শেষ হওয়ার পর বক্তব্য দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কে সরাসরি নিশানা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন নির্বাচনে বিজেপি যে প্রতিশ্রুতিগুলি দিয়েছিল, তার একটিও বাস্তবায়িত হয়নি। সেখানে একে একে সেই প্রতিশ্রুতিগুলির খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি।
তাঁর দাবি, কোচবিহারে নারায়ণী ব্যাটেলিয়ন গঠন এবং চিলা রায়ের নামে প্যারা মিলিটারি ট্রেনিং সেন্টার তৈরির কথা বলা হয়েছিল। পাশাপাশি ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার নামে ২৫০ কোটি টাকার স্মারক ও সংগ্রহশালা গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও মদনমোহন মন্দির ও জল্পেশ মন্দিরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল।
এখানেই শেষ নয়, উত্তরবঙ্গে একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি এইমস প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল বিজেপি বলে দাবি করেন তিনি। কোচবিহার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করা,রাজবংশী ভাষার প্রসারে স্কুল গঠন এবং সেই ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও উল্লেখ করেন অভিষেক।
এই সমস্ত প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে তিনি সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “এগুলোর একটাও কি পূরণ হয়েছে?” তাঁর মতে, বিজেপি শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা করেছে, কিন্তু বাস্তবে কোনও উন্নয়ন ঘটায়নি।
এদিন বাংলার সংস্কৃতি এবং হিন্দু ধর্ম নিয়েও বিজেপিকে কটাক্ষ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিকৃত করার চেষ্টা চলছে, যা মানুষ মেনে নেবে না।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের আক্রমণাত্মক প্রচার তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশলেরই অংশ। এখন দেখার, কোচবিহারের এই জনসমাগম এবং অভিষেকের বক্তব্য ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।





