মালদা, ৪ মার্চঃ হবিবপুরের পর এবার গাজোল। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে (সিএএ) আবেদন করে অবশেষে ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেলেন গাজোলের শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা মহেন্দ্রকুমার সিংহ ও তাঁর স্ত্রী আরতি সিংহ। দোলযাত্রার দিন তাঁদের বাড়িতে গিয়ে শংসাপত্র তুলে দেন গাজোলের বিজেপি বিধায়ক চিন্ময় দেববর্মন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশ ছেড়ে ১৯৯৩ সালে ভারতে আশ্রয় নেন সিংহ দম্পতি। তাঁদের দাবি, এত বছর ধরেও তাঁরা ভারতীয় নাগরিকত্ব পাননি, এমনকি ভোটার কার্ডও ছিল না। প্রায় তিন মাস আগে সিএএ-তে আবেদন করেন তাঁরা। অবশেষে সেই আবেদন মঞ্জুর হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন দম্পতি।
মহেন্দ্রকুমার সিংহ বলেন, “বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের মীরজাফর এলাকায় আমাদের বাড়ি ছিল। দীর্ঘদিন দুশ্চিন্তায় কাটিয়েছি। আজ নাগরিকত্বের শংসাপত্র হাতে পেয়ে খুব খুশি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে ধন্যবাদ জানাই।”
বিধায়ক চিন্ময় দেববর্মন দাবি করেন, শাসক দল তৃণমূল শরণার্থীদের ভুল বুঝিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “যারা হিন্দু শরণার্থী হিসেবে এ দেশে রয়েছেন, সিএএ-তে আবেদন করলে সকলেই নাগরিকত্ব পাবেন। আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।”
অন্যদিকে, তৃণমূল পরিচালিত গাজল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “বিধায়ক সস্তার রাজনীতি করছেন। একজন-দু’জনকে শংসাপত্র দিয়ে প্রচার করছেন, কিন্তু বহু পরিবার এখনও আবেদন করেও সার্টিফিকেট পাননি। উন্নয়ন না করে শুধুই ক্যামেরার সামনে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে।”
নাগরিকত্বের শংসাপত্র প্রদান ঘিরে গাজোলে রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে। তবে বহু বছরের অনিশ্চয়তার পর নাগরিকত্ব পেয়ে স্বস্তিতে সিংহ পরিবার।





