কলকাতা, ৫ মেঃ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বড় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রথমবার রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। দুই শতাধিক আসনে জয় পেয়েছে গেরুয়া শিবির, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস নেমে এসেছে প্রায় ৮০ আসনে। এই ফলাফল ঘোষণার পর কংগ্রেসের একাংশের উচ্ছ্বাস নজরে আসতেই কড়া বার্তা দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
মঙ্গলবার এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ পোস্ট করে রাহুল লেখেন, “তৃণমূলের পরাজয়ে কোনও কোনও কংগ্রেস কর্মী উল্লাস করছেন। এখন এসব ছোটখাটো রাজনীতি সরিয়ে রাখুন। এটা কোনও একটি দলের হার নয়, গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগের বিষয়।” তাঁর মতে, অসম ও বাংলার ফলাফল বিজেপিকে আরও শক্তিশালী করেছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য বিপজ্জনক ইঙ্গিত বহন করে।
এদিকে, বহরমপুর কেন্দ্র থেকে পরাজিত প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “উনি আগে বলুন কত আসন লুট করেছেন। মানুষ তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছে, সেটা মেনে নেওয়া উচিত।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে চর্চার জন্ম দিয়েছে।
রাহুল গান্ধীর এই কড়া প্রতিক্রিয়ার পর প্রশ্ন উঠছে, তাঁর এই বার্তা কি পরোক্ষে অধীর চৌধুরীর উদ্দেশেই? যদিও সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি তিনি, তবে দলের অভ্যন্তরে বার্তা স্পষ্ট বিজেপির উত্থানের প্রেক্ষিতে বিরোধী শক্তিগুলির মধ্যে বিভাজন নয়, বরং ঐক্য জরুরি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে কংগ্রেসের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ নিজেদের সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং বৃহত্তর বিরোধী জোটের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা। বাংলার ফলাফল শুধু একটি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশও বহন করছে।





