কলকাতা, ৩০ মেঃ বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দোরগোড়ায় পৌঁছল সিআইডি। শনিবার দুপুরে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার চার সদস্যের একটি দল প্রথমে হরিশ মুখার্জি রোডে অবস্থিত অভিষেকের বাড়ি ‘শান্তিনিকেতন’-এ যায়। তবে সেখানে গিয়ে তাঁকে বা তাঁর পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি বলে জানা গিয়েছে।
দুপুর ১টার কিছু পরে সিআইডির আধিকারিকরা শান্তিনিকেতনে পৌঁছন। বেশ কিছুক্ষণ দরজার সামনে অপেক্ষা করার পর বাড়ির এক কর্মী স্মরণজিৎ দে বাইরে এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবারের কেউ বাড়িতে নেই। কোথায় গিয়েছেন, সে বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। এরপর সিআইডির আধিকারিকরা তাঁর পরিচয় জেনে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
পরে দুপুর আড়াইটে নাগাদ তদন্তকারী দল কালীঘাট রোডে অবস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্য বাড়িতে পৌঁছয়। সেখানেই তাঁর হাতে একটি নোটিস তুলে দেওয়া হয়। নোটিস পাওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, “নোটিস দেওয়া হয়েছে। তাতে কী লেখা রয়েছে, তা এখনও জানি না। আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। তদন্তে প্রয়োজন হলে সহযোগিতা করব। আমি দমার ছেলে নই, কোনও চাপের কাছে মাথা নোয়াব না।”
জানা গিয়েছে, বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রস্তাবপত্রে বিধায়কদের স্বাক্ষর সংক্রান্ত বিতর্কের তদন্ত করছে সিআইডি। অভিযোগ, একটি বৈঠকে অনুপস্থিত থাকা কয়েকজন বিধায়কের নামেও স্বাক্ষর করা হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠতেই বিধানসভা সচিবালয়ের পক্ষ থেকে হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরে তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডিকে।
তদন্তের অংশ হিসেবে গত কয়েক দিনে একাধিক তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে গিয়েছেন সিআইডি আধিকারিকরা। চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, ডোমজুড়ের তাপস মাইতি, ক্যানিং পূর্বের বাহারুল ইসলাম, বোলপুরের চন্দ্রনাথ সিনহা এবং কুণাল ঘোষের সঙ্গেও কথা বলেছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে, সই সংক্রান্ত এই বিতর্ক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সিআইডির তদন্তে নতুন কী তথ্য সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।





