মনিরুল হক, কোচবিহার: বিধানসভা নির্বাচনের আগে শক্তি প্রদর্শনে কোচবিহারে তৃণমূল কংগ্রেসের মেগা রোড শো কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হল। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই রোড শোতে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত মানুষের ঢল নজরে আসে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিপুল জনসমাগম নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সংগঠনগত শক্তিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রোড শো শেষে জনসভায় দাঁড়িয়ে বিজেপির প্রার্থী রথিন বোসকে ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান অভিষেক। তিনি বলেন, “বিজেপি যাঁকে প্রার্থী করেছে, তিনি কোচবিহারের মানুষ নন, প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের শিলিগুড়ির বাসিন্দা। ভোটের সময় তাঁকে দেখা গেলেও, প্রয়োজনে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।” এর বিপরীতে তৃণমূলের প্রার্থীদের ‘মাটির সন্তান’ বলে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, স্থানীয় মানুষের পাশে সবসময় থাকেন তাঁরাই।
এদিন বিজেপির প্রচার কৌশল নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপি নেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে রান্না করা বা চুল কাটার মতো প্রচার কর্মসূচিকে ‘নাটকীয়তা’ বলে উল্লেখ করেন অভিষেক। উপস্থিত গৃহবধূদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ, “বিজেপি নেতারা এলে তাঁদের হাতে ঝাঁটা ধরিয়ে ঘর পরিষ্কার করান।” তাঁর এই মন্তব্যে সভামঞ্চে উপস্থিত জনতার মধ্যে হাসির রোল ওঠে।
শুধু তাই নয়, সম্প্রতি কোচবিহারের শুটকাবাড়ি অঞ্চলকে ‘ছোট্ট বাংলাদেশ’ এবং ‘রোহিঙ্গা’ বলে কটাক্ষ করার অভিযোগ তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। এই মন্তব্যকে অপমানজনক বলে উল্লেখ করে অভিষেক বলেন, “যাঁরা এই মন্তব্য করেছেন, তাঁদের ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে জবাব দিন।” তিনি আরও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “যে মাঠে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কর্মীদের ভয় দেখানো হয়েছিল এবং রোহিঙ্গা বলা হয়েছিল, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর আমি সেই মাঠেই এসে বিজয় উৎসব করব।”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই নির্বাচনে কোচবিহার তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় মানুষের সম্মান ও আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন তুলে তিনি ভোটারদের আবেগে নাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘বহিরাগত বনাম স্থানীয়’ ইস্যু এবার কোচবিহারের নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।
এদিনের সভা থেকে নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছাও জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি তিনি ভোটারদের উদ্দেশে আবেদন করেন, আসন্ন নির্বাচনে জোড়াফুল প্রতীকে এমনভাবে ভোট দিতে হবে, যাতে তার প্রতিধ্বনি দিল্লি ও গুজরাত পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তাঁর কথায়, “এমনভাবে বোতাম টিপবেন, যাতে তার ভূমিকম্প দিল্লি ও গুজরাতে গিয়ে লাগে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধরনের আক্রমণাত্মক প্রচার এবং আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে তৃণমূল ভোটারদের একত্রিত করার কৌশল নিচ্ছে। এখন দেখার, কোচবিহারের এই জনসমাগম এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।





