কলকাতা, ২ সেপ্টেম্বরঃ বর্ষা এখনও বিদায় নেয়নি। তার মধ্যেই রাজ্যের একাধিক প্রান্ত থেকে ডেঙ্গুর খবর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ বার স্বাস্থ্যভবনে আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠক থেকে তাঁর স্পষ্ট বার্তা ডেঙ্গু হলে তথ্য লুকানো যাবে না। জ্বর নিয়ে হাসপাতালে গেলে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার ব্যবস্থার কথাও জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর, বর্তমানে রাজ্যে ১৪৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত চিকিৎসাধীন বা নজরদারিতে রয়েছেন। এখনও পর্যন্ত চলতি মরসুমে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় চার হাজার। তবে গত বছরের তুলনায় এ বার সংক্রমণ প্রায় ৫০ শতাংশ কম বলে বৈঠকে দাবি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, পরিস্থিতি স্বাভাবিক ধরে নিয়ে বসে থাকলে চলবে না। পুজোর পরেও ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকতে পারে। তাই নভেম্বর পর্যন্ত লাগাতার নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মহানগরের ১২টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। অন্য দিকে ৬১টি ওয়ার্ড এখনও ডেঙ্গুমুক্ত বলে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি। জেলার হিসাবে মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য দফতর নয়, পুরসভাগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এডিস মশার বংশবিস্তার মূলত জমে থাকা জলের সঙ্গে যুক্ত। ফলে বাড়ি, নির্মাণস্থল, পরিত্যক্ত জায়গা এবং নিকাশি ব্যবস্থায় জমা জল নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি।
বৈঠকে পুর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, পালাবদলের পর একাধিক পুরসভায় প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হয়েছে। কোথাও প্রশাসক নেই, কোথাও চেয়ারম্যানরা সক্রিয় নন, আবার কিছু পুরসভা পরিষেবা ও উন্নয়নমূলক কাজও ঠিকমতো করছে না।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু মোকাবিলায় ‘কেস লুকোনো নয়, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং উৎসস্থলে মশা নিয়ন্ত্রণ’ এই তিনটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। তাই জ্বর হলে পরীক্ষা করানো এবং রিপোর্ট প্রশাসনের কাছে পৌঁছনোই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের প্রথম ধাপ। প্রশাসনের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ পরিসংখ্যান কম রাখার প্রতিযোগিতা নয়, সংক্রমণ সত্যিই কমিয়ে আনা।





