কলকাতা, ২৮ মেঃ কলকাতা হাই কোর্ট তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান-এর সমস্ত রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নিল। মঙ্গলবার আদালতের পর্যবেক্ষণের পর স্পষ্ট হয়ে যায়, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলিতে এখন আর গ্রেফতারির ক্ষেত্রে কোনও আইনি বাধা থাকছে না। এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
২০১৯ সালে জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলায় তিনি আদালতের কাছ থেকে অন্তর্বর্তিকালীন রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন। ওই সুরক্ষার মেয়াদ বুধবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। মঙ্গলবার মামলাটি ফের শুনানিতে ওঠে। প্রথমে আইনজীবীরা উপস্থিত না থাকায় বিষয়টি নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়। পরে আদালত জানিয়ে দেয়, আগের দেওয়া রক্ষাকবচ আর বহাল থাকছে না।
এর পাশাপাশি ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের আগে আরও একটি মামলায় হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন জাহাঙ্গির। ভোটের আগে সম্ভাব্য গ্রেফতারি এড়াতেই তিনি আদালতের কাছে সুরক্ষা চেয়েছিলেন। মঙ্গলবার সেই মামলাও শুনানিতে ওঠে। রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়।
বিচারপতি পার্থসারথি সেন পর্যবেক্ষণে জানান, ভোটে অংশগ্রহণের স্বার্থে অন্তর্বর্তিকালীন রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, “মামলাকারী এফআইআর খারিজ চেয়ে আদালতে আসেননি। এই পরিস্থিতিতে রক্ষাকবচ বহাল রাখারও কোনও কারণ নেই।” আদালত আরও জানায়, পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী মামলাকারীর বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো যেতে পারে। তাই রক্ষাকবচ তুলে নেওয়াই যুক্তিযুক্ত।
জাহাঙ্গিরের আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতের কাছে জবাব দেওয়ার জন্য কিছু সময় চান। পরে দুপুরে ফের শুনানি শুরু হলে আদালত চূড়ান্তভাবে রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে মোট সাতটি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। আগাম গ্রেফতারি এড়াতে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। কিন্তু এবার আদালতের নির্দেশে সেই সুরক্ষা সম্পূর্ণভাবে উঠে গেল।
উল্লেখ্য, ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে জাহাঙ্গির ঘোষণা করেছিলেন, তিনি ভোটে লড়বেন না। যদিও শেষ পর্যন্ত তাঁর নাম ব্যালটে ছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভোটের আগেই আইনি জটিলতা এবং সম্ভাব্য গ্রেফতারির আশঙ্কাই তাঁর এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হতে পারে।
রবিবার ফল ঘোষণার পর দেখা যায়, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে জাহাঙ্গির খান মাত্র সাত হাজারের কিছু বেশি ভোট পেয়েছেন। রাজনৈতিক ভাবে এই ফল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, গত লোকসভা নির্বাচনে একই বিধানসভা এলাকা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় দেড় লক্ষ ভোটের লিড পেয়েছিলেন। অথচ এবারের উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীর জামানতই জব্দ হয়েছে।
এমনকি ভোটের দিন জাহাঙ্গির নিজেও ভোট দিতে যাননি বলে খবর ছড়ায়। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এই ঘটনা তৃণমূলের অন্দরের সংকট ও জনসমর্থন কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও তৃণমূলের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।





