বানারহাট, ৭ জানুয়ারি : বানারহাটের তোতাপাড়া ও মোগলকাটা চা বাগানে এদিন পরিদর্শনে গেলেন জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায়।এদিন তিনি সরাসরি চা বাগানে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন।শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবনযাপন, মজুরি, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও অন্যান্য সমস্যার কথা শোনেন।
পাশাপাশি বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও বৈঠক করে শ্রমিকদের নানা দাবিদাওয়া ও সমস্যার বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি।সেই সাথে বন্ধ মোগলকাটা চা বাগানে শ্রমিকদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেন সাংসদ।পরিদর্শন শেষে সাংসদ জয়ন্ত রায় চা শিল্পের বর্তমান বেহাল অবস্থার জন্য রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেন।
তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার চা বাগান ও চা শ্রমিকদের সমস্যার প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন।এর ফলেই রাজ্যের একের পর এক চা বাগানে সংকট বাড়ছে এবং শ্রমিকরা ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।এদিন তিনি রাজ্যের চা শ্রমিকদের সঙ্গে অন্যান্য রাজ্যের শ্রমিকদের মজুরির তুলনাও তুলে ধরেন।
জয়ন্ত রায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গে চা শ্রমিকদের দৈনিক হাজিরা যেখানে মাত্র ২৫০ টাকা, সেখানে দেশের অন্যান্য অনেক রাজ্যে একই ধরনের কাজে শ্রমিকরা ৩৫০ টাকা কিংবা তারও বেশি মজুরি পাচ্ছেন। এই বৈষম্য কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাংসদের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্পষ্ট নির্দেশ ও ইচ্ছা হল— “একই কাজে সর্বত্র একই মজুরি” নীতি চালু করা। কিন্তু রাজ্য সরকারের অনীহা ও সদিচ্ছার অভাবের কারণেই সেই নীতি পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর হচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার যদি আন্তরিক হতো, তাহলে চা শ্রমিকদের এই দুর্দশা তৈরি হতো না।
বিজেপি সংসদের বক্তব্য কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বলে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। তাদের বক্তব্য কেন্দ্রীয় সরকারের উদাসীনতায় চা বাগানের সমস্যা দেশ জুড়ে। চা শ্রমিকদের জন্য কিছুই করেনি কেন্দ্র। সম্প্রতি আলিপুর দুয়ারে এসে চা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন তৃণমূলের সর্বভারতী সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির ব্যাপারেও আশ্বাস দেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সফরের পরেই চা বাগানের স্কুল পড়ুয়াদের জন্য চালু হয়েছে বিশেষ বাস।শ্রমিকদের জন্য যা করছে সবটাই রাজ্য সরকার।এখন ভোটের মুখে সাংসদ বাগান ঘুরে নজর
ঘোরাতে চাইছেন। বিজেপির ওই নজর ঘোরানোর চেষ্টা বাগান শ্রমিকরা করে দিবেন।তারা জানেন, রাজ্য সরকার তাদের পাশে আছে। তাদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প কার্যকরই করেছে।





