নদীয়া, ১৯ মেঃ পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইনকে ঘিরে ফেসবুক পোস্ট করে নতুন বিতর্কে জড়ালেন মহুয়া মৈত্র। তাঁর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ তুলে করিমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বিজেপি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নদিয়ার করিমপুর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হয়েছে।
অভিযোগের সূত্রপাত ১৬ মে মহুয়া মৈত্রের একটি ফেসবুক ভিডিও পোস্টকে কেন্দ্র করে। সেখানে তিনি রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক গোহত্যা সংক্রান্ত নির্দেশিকাকে “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, “একটা বিশেষ শ্রেণিকে খুশি করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পশুহাটগুলিতে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং গরু কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত মানুষজনের মধ্যে ভয় ছড়িয়েছে।”
এছাড়াও তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বিপুল পরিমাণ গোমাংস রপ্তানি করেছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন, “যদি রপ্তানি বৈধ হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের গরু কেনাবেচা নিয়ে এত কড়াকড়ি কেন?” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক।
এই পোস্টের বিরোধিতা করে করিমপুর বিধানসভার বিজেপি মণ্ডল ৩-এর সহ-সভাপতি গোলক বিশ্বাস থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, সরকারি নির্দেশিকায় কোনও সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে কিছু বলা হয়নি। অথচ মহুয়া মৈত্র ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে করিমপুরের বিজেপি বিধায়ক সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “নির্দেশিকায় কোথাও পশুহাট বন্ধ করার কথা বলা হয়নি। সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার রুখতেই সরকার কড়া পদক্ষেপ করেছে। সাংসদের মন্তব্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও উদ্দেশ্যমূলক।”
ঘটনার অন্য দিকও সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, চলতি মাসের ৯ তারিখে গোলক বিশ্বাস নিজেও সামাজিক মাধ্যমে একটি বিতর্কিত পোস্ট করেছিলেন। সেখানে লেখা ছিল, “যে ব্যক্তি মহুয়া মৈত্রকে জমি বা বাড়ি ভাড়া দেবে, তাকে এলাকার শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।” সেই পোস্টের বিরুদ্ধে আগেই থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র।
যদিও এই পুরো বিতর্ক নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি মহুয়া। তবে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের খবর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতা-কর্মীর মতে, সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল এলাকায় এ ধরনের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। ফলে করিমপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আপাতত যথেষ্ট উত্তপ্ত বলেই মনে করা হচ্ছে।





