কলকাতা, ১৯ মেঃ সোমবার থেকেই রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর দুটি বাড়ি। একটি হরিশ মুখার্জি রোডের ‘শান্তিনিকেতন’, অন্যটি কালীঘাট রোডের বাড়ি। কলকাতা পুরসভার পাঠানো নোটিস ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক। অবশেষে মঙ্গলবার এ বিষয়ে মুখ খুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটে দলের বিধায়কদের বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমার বাড়ি ভেঙে দিক, নোটিস পাঠাক। আমি এসবের কাছে মাথা নত করব না।”
উল্লেখ্য, কলকাতা পুরসভার তরফে অভিযোগ করা হয়েছে যে ভবানীপুর এলাকার ১২১ কালীঘাট রোড এবং ১৮৮এ হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে প্ল্যান বহির্ভূত নির্মাণ রয়েছে। নোটিসে বলা হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলতে হবে। অন্যথায় পুরসভা নিজেই ব্যবস্থা নেবে।
হরিশ মুখার্জি রোডের ‘শান্তিনিকেতন’ দীর্ঘদিন ধরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচিত বাসভবন। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তিনি সেখানেই থাকেন। অন্যদিকে কালীঘাট রোডের বাড়িটি তাঁর মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নামে হলেও সেটিকে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর সম্পত্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। জানা গিয়েছে, অভিষেকের মোট ১৭টি সম্পত্তির খতিয়ান খতিয়ে দেখছে পুরসভা।
মঙ্গলবার বিকেলে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর উপস্থিতিতে বিধায়কদের বৈঠকে এই ইস্যুতে সরব হন অভিষেক। তিনি বলেন, “ওরা যা খুশি করুক। আমার বিরুদ্ধে যত চাপই আসুক, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।” একইসঙ্গে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-কে কটাক্ষ করে অভিষেকের মন্তব্য, “বাংলা এরকম মানসিকতার মুখ্যমন্ত্রী আগে দেখেনি। যাকে ক্যামেরার সামনে টাকা নিতে দেখা গিয়েছে, তাকেই আজ মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে।”
অভিষেকের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। বিজেপির পাল্টা দাবি, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে আইন মেনেই পদক্ষেপ করছে প্রশাসন এবং কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
রাজনৈতিক মহলের মতে, পুরসভার নোটিসকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী সংঘাত এখন নতুন মাত্রা পেল। আগামী দিনে এই ইস্যু আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্কের আকার নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।





