কলকাতা, ১৭ এপ্রিলঃ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে ফের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতায় সরগরম রাজ্য রাজনীতি। শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ রাসবিহারীর বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের মনোহরপুকুরের বাড়ি ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হানা দেয় আয়কর দপ্তর। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই তল্লাশি সন্ধে পেরিয়েও চলতে থাকে। ১৩ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাঁকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
তল্লাশি অভিযানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিও নজরকাড়া। সকাল থেকেই বাড়ি ঘিরে ফেলে জওয়ানরা। সময় যত গড়িয়েছে, ততই বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। এলাকায় কার্যত চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বাড়ির ভিতরে আয়কর আধিকারিকরা জিজ্ঞাসাবাদ চালালেও বাইরে জমতে শুরু করে উত্তেজনা।
দেবাশিস কুমারের বাড়িতে এই তল্লাশির প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন তাঁর অনুগামীরা। দুপুরের পর থেকেই বিক্ষোভ চরম আকার নেয়। বুকে প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে রাস্তায় বসে পড়েন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। প্ল্যাকার্ডে লেখা ‘আমিও দেবাশিস কুমার’। তাঁদের অভিযোগ, ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে প্রার্থীকে হেনস্তা করা হচ্ছে। “নির্বাচনের আগে কেন এই তল্লাশি?” এই প্রশ্ন তুলে স্লোগান ওঠে এলাকায়।
একদিকে আয়কর দপ্তরের জিজ্ঞাসাবাদ, অন্যদিকে কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ দুইয়ের চাপে দিনভর সরগরম ছিল রাসবিহারী এলাকা। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হলেও উত্তেজনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
উল্লেখ্য, এর আগেও জমি দখল সংক্রান্ত একটি প্রতারণা মামলায় দেবাশিস কুমারকে তলব করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তিনি সেই তলবে হাজিরাও দেন। তদন্ত চলাকালীন একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু তথ্য হাতে পায় তদন্তকারী সংস্থা, যার সূত্র ধরেই তাঁর নাম সামনে আসে বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনার পর ফের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটের মুখে বিরোধী প্রার্থীদের চাপে রাখতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে দাবি শাসকদলের। সেই সময়ও প্রায় প্রতিদিন ইডি ও সিবিআইয়ের তল্লাশি অভিযান ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল রাজ্যে।
পাঁচ বছর পর ফের এক নির্বাচন এবং একই ছবি এই মিল খুঁজে পাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের একাংশের মতে, ভোটের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই তৎপরতা রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতেই পারে। তবে অন্যদিকে তদন্তকারী সংস্থার দাবি, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এই তল্লাশি চলছে।
সব মিলিয়ে, দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আয়কর হানা ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নির্বাচনী আবহে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়েছে। এখন দেখার, এই ঘটনার প্রভাব ভোটের ময়দানে কতটা পড়ে এবং তদন্তে কী উঠে আসে।





