দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ১৭ এপ্রিলঃ দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে নির্বাচনী জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুর্নীতি, প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে নির্বাচনী কৌশল একাধিক ইস্যুতে পদ্মশিবিরকে নিশানা করে তিনি বলেন, “আগে চুরি বা দু-নম্বরি করলে মানুষ জেলে যেত, আর এখন সরাসরি বিজেপিতে চলে যায়। দুর্নীতিগ্রস্তদের বাঁচাতে বিজেপি এখন ওয়াশিং মেশিন হয়ে উঠেছে।”
সভামঞ্চ থেকে অভিষেক অভিযোগ করেন, অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলা হয়েছে। “টোটো দেওয়ার নামে হাজার হাজার টাকা তুলে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে,” এই অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আগে এসবের শাস্তি হত, কিন্তু এখন বিজেপিতে যোগ দিলেই সব ‘মাফ’ হয়ে যায়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমি কথা দিচ্ছি, সব হিসেব হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদার হতে পারেন, আমি অতটা উদার নই।”
প্রার্থী প্রসঙ্গেও বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। অভিষেক দাবি করেন, তৃণমূল প্রার্থী তাপস মণ্ডল দীর্ঘদিনের শিক্ষক এবং তাঁর সামাজিক মর্যাদা প্রশ্নাতীত। অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে খুন, দাঙ্গা ও জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কটাক্ষ, “কোনও ভদ্রলোক বা শিক্ষিত মানুষ বিজেপি করে না। যত চোর-চিটিংবাজ সব বিজেপিতে।”
নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি নেতাদের জনসংযোগ কৌশল নিয়েও তীব্র বিদ্রূপ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “কোভিড হোক বা প্রাকৃতিক বিপর্যয় কোথাও দেখা যায় না এদের। আর এখন ভোটে দাঁড়িয়ে কেউ লুচি ভাজছে, কেউ দাড়ি কাটছে।” মহিলাদের উদ্দেশে মজার ছলে বলেন, “বিজেপি নেতারা এলে ঝাঁটা দিয়ে ঘর পরিষ্কার করিয়ে নিন।” পুরুষদের উদ্দেশেও একইভাবে বলেন, তাঁদের দিয়ে চুল-দাড়ি কাটানোর কথা।
খাদ্যাভ্যাস নিয়েও বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান তিনি। “আমরা কী খাব, কী পরব সেটা দিল্লির বহিরাগতরা ঠিক করবে কেন ?” এই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বাংলার সংস্কৃতিতে হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। এমনকি ফল ঘোষণার পর বিজেপি নেতাদের মাছের বাজারে বসিয়ে মাছ বা ডিম বিক্রি করানোর কথাও বলেন তিনি।
এদিনের সভায় উন্নয়নের খতিয়ানও তুলে ধরেন অভিষেক। রায়দিঘিতে মাতৃমা বিল্ডিং, ইকো ট্যুরিজম পার্ক, বাস টার্মিনাস এবং মণি নদীর উপর সেতুর মতো একাধিক প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ঘোষণা করেন, “৪ তারিখের পর রায়দিঘি ও মথুরাপুরেও ডায়মন্ড হারবার মডেল চালু হবে।” এছাড়াও রায়দিঘি থেকে সরাসরি কলকাতা ও দীঘার বাস পরিষেবা চালু এবং মথুরাপুরকে মহকুমা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সবশেষে আসন্ন ২৯ মে-র শেষ দফার নির্বাচনে ভোটারদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে অভিষেক বলেন, “ইভিএমের এক নম্বর বোতাম টিপে জোড়াফুল প্রার্থীকে জয়যুক্ত করুন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মানুষ বহিরাগতদের রফাদফা করতে জানে।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে লড়াই আরও তীব্র আকার নিতে চলেছে।





