কলকাতা, ১৭ এপ্রিলঃ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা ঘিরে ফের সরগরম রাজ্য রাজনীতি। শুক্রবার ভবানীপুর কেন্দ্রে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়নের প্রস্তাবক মিরাজ শাহর বাড়িতে আয়কর দপ্তরের হানা ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এলগিন রোডে তাঁর বাসভবনে হঠাৎ করেই এই তল্লাশি অভিযান শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সূত্রের খবর, শুক্রবার দুপুর নাগাদ আয়কর দপ্তরের আধিকারিকরা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে মিরাজ শাহর বাড়িতে পৌঁছন। এরপর শুরু হয় তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ। তাঁর পরিবারের সদস্য, আপ্ত সহায়ক এবং কর্মচারীদেরও প্রশ্ন করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী চিরঞ্জিত দত্ত জানিয়েছেন, হঠাৎ করেই এই অভিযান শুরু হয় এবং তাঁরা আগে থেকে কিছুই জানতেন না।
উল্লেখ্য, মিরাজ শাহ ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটির সঙ্গে যুক্ত একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, মালিক এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য। পাশাপাশি তিনি ভবানীপুরে গুজরাটি সম্প্রদায়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবেও পরিচিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং সম্প্রতি তৃণমূল নেত্রীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন। ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থীপত্রে যাঁরা প্রস্তাবক ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মিরাজ শাহ।
আয়কর দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জমি সংক্রান্ত একটি দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অভিযোগ, বিতর্কিত জমি কেনাবেচা এবং ভুয়ো দলিল তৈরির সঙ্গে তাঁর যোগ থাকতে পারে। সেই সূত্রেই তদন্তের স্বার্থে এই অভিযান বলে দাবি কেন্দ্রীয় সংস্থার।
তবে এই ঘটনার পরই সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ এই তল্লাশির তীব্র নিন্দা করে বলেন, “নির্বাচনের আগে নির্দিষ্ট কয়েকজনের বাড়িতে এভাবে হানা দেওয়া গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক।” তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটের মুখে বিরোধীদের চাপে রাখতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের তল্লাশি অভিযান রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। বিশেষ করে যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত, তখন এই ঘটনার রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
সব মিলিয়ে, ভবানীপুরে মিরাজ শাহর বাড়িতে আয়কর হানা শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবেই নয়, বরং রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন দেখার, এই ঘটনার প্রভাব নির্বাচনী প্রচার ও ভোটের ফলাফলে কতটা পড়ে।





