পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৭ এপ্রিলঃ পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গৃহবধূ ও তাঁর শিশুকন্যাকে হেনস্তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এদিন তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “৪ তারিখের পর সবাইকে ওই মহিলার পা ধরে ক্ষমা চাইতে হবে।”
শুক্রবার তেমাথানি পল্লিশ্রী মাঠে তৃণমূল প্রার্থী মানসরঞ্জন ভুইঁয়ার সমর্থনে আয়োজিত সভায় বিপুল জনসমাগম হয়। সভামঞ্চ থেকেই অভিষেক বিজেপির বিরুদ্ধে ‘লুম্পেনরাজ’ চালানোর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, এলাকায় ভয় দেখিয়ে ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করছে বিজেপি কর্মীরা।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাতে সবংয়ের হরিজনপল্লি এলাকায় এক গৃহবধূ ও তাঁর দুই বছরের শিশুকন্যাকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। জানা গিয়েছে, ভুলবশত বিজেপির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার জেরেই কয়েকজন অভিযুক্ত তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়। অভিযোগ, শিশুকন্যার সামনেই ওই মহিলাকে মারধর করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।
এই ঘটনার পর সবং থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তদন্তে নেমে কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারও করেছে বলে জানা গিয়েছে। এই প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক বলেন, “আমার কাছে সবার নাম রয়েছে। বিচারব্যবস্থার উপর আমাদের আস্থা আছে। তবে ৪ তারিখের পর এই ঘটনার পূর্ণ বিচার হবে।”
তিনি আরও জানান, আটজন অভিযুক্তের মধ্যে ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে। তবে তাঁর হুঁশিয়ারি, “যারা ভেবেছে এভাবে ভয় দেখিয়ে মানুষকে চুপ করিয়ে রাখা যাবে, তারা ভুল করছে। সবাইকে জবাব দিতে হবে।”
বিজেপির উদ্দেশে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “যদি ভাবেন লম্ফঝম্প করে এলাকার শান্তি নষ্ট করবেন, তাহলে ৪ তারিখের পরে অন্য সুরে কথা বলতে হবে।” তাঁর মন্তব্য, “রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে ডিজেও বাজবে,” এই কথার মধ্য দিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে ভোটের পর পরিস্থিতির পালাবদল হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনার উল্লেখ করে তৃণমূল একদিকে যেমন বিজেপিকে চাপে রাখতে চাইছে, তেমনি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ইস্যুকেও সামনে আনছে। অন্যদিকে বিজেপির তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, সবংয়ের এই ঘটনা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া বক্তব্য নির্বাচনী আবহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার, প্রশাসনিক তদন্তে কী উঠে আসে এবং ভোটের ফলাফলে এই ইস্যুর প্রভাব কতটা পড়ে।





