জলঙ্গি, ১৭ এপ্রিলঃ মাত্র ১৬ বছর বয়সে গাছের তলায় স্কুল গড়ে তুলে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছিলেন বাবর আলি। সেই ‘পৃথিবীর কনিষ্ঠতম হেডমাস্টার’ এবার রাজনীতির ময়দানে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে জলঙ্গি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে প্রচারে নেমে ইতিমধ্যেই চমক দেখাচ্ছেন তিনি।
বাবর আলির নাম একসময় শিক্ষা উদ্যোগের জন্য সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। অল্প বয়সেই গ্রামের দরিদ্র শিশুদের জন্য স্কুল শুরু করেছিলেন তিনি। সেই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হয়, এমনকি বিবিসি-র তরফেও স্বীকৃতি পেয়েছিলেন তিনি। এবার সেই শিক্ষকই রাজনীতির ময়দানে নেমে মানুষের জন্য কাজ করার নতুন লক্ষ্য স্থির করেছেন।
জলঙ্গিতে প্রচারে নেমে বাবর আলি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর কাছে প্রতিপক্ষ কে বা তাঁদের রাজনৈতিক মতাদর্শ কী তা নিয়ে ভাবার সময় নেই। তাঁর মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষের উন্নয়ন। তিনি বলেন, “আমি রাজনীতি করতে আসিনি, মানুষের জন্য কাজ করতে এসেছি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থান এই তিনটিকেই আমি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চাই।”
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাওয়াকে তিনি ‘বড় উপহার’ বলে মনে করছেন। সেই আস্থার মর্যাদা রাখাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাবরের কথায়, “দিদি ও অভিষেকদা যে বিশ্বাস রেখেছেন, তা পূরণ করতে চাই। মানুষের পাশে থেকে কাজ করাই আমার লক্ষ্য।”
তবে নির্বাচনের আগে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এই প্রসঙ্গে বাবর আলি বলেন, তিনি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের পক্ষেই। তাঁর বিশ্বাস, উন্নয়নই শেষ কথা এবং সেই উন্নয়নই মানুষের আস্থা অর্জন করবে। তিনি আরও বলেন, “মানুষ সব বোঝে। যারা কাজ করে, মানুষ তাদেরই সমর্থন করে।”
বাবর আলি এ-ও দাবি করেন, রাজ্যে ফের তৃণমূল সরকারই ক্ষমতায় আসবে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হবেন। তাঁর মতে, রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং সামাজিক উদ্যোগই মানুষের সমর্থন এনে দেবে।
স্থানীয় মানুষের সঙ্গেও দ্রুত যোগাযোগ গড়ে তুলছেন তিনি। বাড়ি বাড়ি প্রচার, ছোট ছোট সভা সব মিলিয়ে তাঁর প্রচারে ভিন্ন মাত্রা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
সব মিলিয়ে, শিক্ষক থেকে রাজনীতিক এই যাত্রাপথে বাবর আলির নতুন অধ্যায় জলঙ্গির নির্বাচনী লড়াইকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। এখন দেখার, তাঁর এই ‘মানুষের জন্য রাজনীতি’-র বার্তা ভোটবাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়।





