কলকাতা, ১০ আগস্টঃ দেশব্যাপী আইন অমান্য ও ‘জেল ভরো’ কর্মসূচির আঁচ এবার আসানসোলেও। শ্রমিক-কৃষক বিরোধী নীতি, কাজের দাবি, শ্রম কোড বাতিল এবং সামাজিক সুরক্ষার দাবিতে সোমবার বামেদের ডাকা কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল আসানসোল পুলিশ লাইন সংলগ্ন এলাকা। শতাব্দী পার্ক থেকে জিটি রোড ধরে বিশাল মিছিল এগোতেই একের পর এক ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত শুরু হয় ব্যাপক ধস্তাধস্তি।
ভগৎসিং মোড়ে পৌঁছতেই পুলিশের প্রথম ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যান আন্দোলনকারীরা। পুলিশ লাইনের কাছে দ্বিতীয় ব্যারিকেডও টপকে যায় মিছিল। এর পর দক্ষিণ পুলিশ ফাঁড়ির কাছে বিশাল ব্যারিকেডের সামনে আটকে যায় আন্দোলনকারীদের পথ। সেখানেই পুলিশ ও বাম কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি জলকামান ও দমকলও মোতায়েন করা হয়।
কর্মসূচিতে নেতৃত্বে ছিলেন সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পার্থ মুখোপাধ্যায়। ব্যারিকেডের সামনে দাঁড়িয়ে মীনাক্ষী অভিযোগ করেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের শ্রমিক-কৃষক বিরোধী নীতির জেরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।
তাঁর বক্তব্য, রেশন থেকে নাম বাদ যাওয়া, হকার উচ্ছেদ, কোলিয়ারি ও স্টিল প্ল্যান্ট বন্ধ, বিদ্যুতের বিল বৃদ্ধি থেকে শুরু করে মহিলাদের উপর অত্যাচার একাধিক ইস্যুতে মানুষ ক্ষুব্ধ। তাঁর দাবি, ‘‘পুলিশি পাহারা দিয়ে এই জনরোষ আটকানো যাবে না।’’
শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকতেই মীনাক্ষী-সহ একাধিক বাম নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের দু’টি বাস ও প্রিজন ভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
আসানসোলের পাশাপাশি বাঁকুড়াতেও বামেদের কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। ফলে ‘জেল ভরো’ কর্মসূচির দিনে রাজ্যের একাধিক জায়গায় বামেদের শক্তি প্রদর্শন এবং প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাত দুই ছবিই সামনে এল।





