খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৪ ফেব্রুয়ারি: নদীর বালির আড়াল থেকে আচমকাই সামনে এল ইতিহাসের ভয়ংকর অধ্যায়। বাঁকুড়ার সোনামুখীতে দামোদর নদীর তীরে উদ্ধার হল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত দুটি মর্টার সেল। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
সোনামুখী থানার অন্তর্গত ডিহিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৭ নম্বর বালিঘাটে বালি তুলতে গিয়ে প্রথম এই বিপজ্জনক বস্তু দুটি নজরে আসে স্থানীয়দের। বিশাল লোহার আকৃতির সন্দেহজনক বস্তু দেখে মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সোনামুখী থানার পুলিশ। নিরাপত্তার স্বার্থে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয় এবং সাধারণ মানুষের নদীতটে প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি দামোদর নদীর জলস্তর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বালির নিচে চাপা থাকা মর্টার সেলগুলি ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে এসেছে। প্রাথমিকভাবে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, এগুলি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার এবং এখনও বিস্ফোরক অবস্থায় থাকতে পারে। সেই কারণেই কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে বোম্ব স্কোয়াড ও সেনাবাহিনীকে খবর দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই প্রথম নয়। অতীতেও সোনামুখী ও আশপাশের এলাকায় একাধিকবার মর্টার সেল উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালে সোনামুখী এলাকায় একটি মর্টার সেল উদ্ধার হয়েছিল। তার আগে ২০১০ সালের কাছাকাছি পূর্ব বর্ধমানের মসাগ্রামে একসঙ্গে তিনটি এবং ২০১৫ সালে পাত্রসায়রের শালখাড়া এলাকায় চারটি মর্টার সেল উদ্ধার হয়। প্রতিবারই বোম্ব স্কোয়াড বালিভর্তি বস্তা দিয়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে রাতে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেগুলি নিষ্ক্রিয় করে।
ইতিহাসের নিদর্শন হলেও আতঙ্ক কাটেনি সাধারণ মানুষের। দামোদর নদীর শান্ত জলের নীচে এখনও যে লুকিয়ে থাকতে পারে যুদ্ধের বিস্ফোরক স্মৃতি, এই ঘটনাই ফের সেই আশঙ্কা জাগিয়ে তুলল সোনামুখীর বাসিন্দাদের মনে।





