বীরভূম, ১৬ আগস্টঃ রামপুরহাটে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু ঘিরে এ বার সরাসরি ‘বখাটে’দের দিকে আঙুল তুললেন অনুব্রত মণ্ডল। রবিবার রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে দাঁড়িয়ে তৃণমূল নেতা অভিযোগ করলেন, সমাজমাধ্যমে আশিসকে লাগাতার অপমান করা হয়েছিল। এমনকি দলের মধ্যেও এক জন ‘বখাটে’ রয়েছেন বলে দাবি করলেন তিনি। তবে তাঁর নাম প্রকাশ্যে আনেননি অনুব্রত।
তাঁর কথায়, ‘‘সোশাল মিডিয়ায় তাঁকে অপমান করা হয়েছে। নোংরা নোংরা ভাষা বলেছে। আমরা তো কারও সঙ্গে নোংরামি করিনি, কাউকে চড়ও মারিনি।’’ আশিসের মৃত্যুর জন্য সমাজমাধ্যমের কয়েক জনকে দায়ী করে অনুব্রত বলেন, ‘‘কিছু বখাটে ছেলে সোশাল মিডিয়ায় উল্টোপাল্টা কথা বলেছেন।’’
আশিসের মৃত্যুর নেপথ্যে টিআরডিএ-র দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ এবং তাঁকে ‘ম্যালাইন’ করার বিষয়টিও সামনে এসেছে। উদ্ধার হওয়া চিঠিতে অপমানের কথা উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই প্রসঙ্গেই অনুব্রতর দাবি, সমাজমাধ্যমে আশিসকে কুৎসিত ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও কথা বলেছিলেন বলে জানান।
অনুব্রত বলেন, ‘‘আমার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, আমি পাশে আছি, বিষয়টা দেখব। পরিবারের পাশেও থাকবেন।’’
এর পরেই দলের অন্দরেও এক ‘বখাটে’ থাকার কথা বলেন তিনি। তাঁর দাবি, ‘‘দলে তো একজন নামকরা বখাটে আছে।’’ তবে কে সেই ব্যক্তি, তা স্পষ্ট করেননি অনুব্রত। বরং জানিয়েছেন, আশিসের সঙ্গে ওই নেতার সম্পর্ক ভালই ছিল।
আশিসের স্বভাবের কথাও বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অনুব্রত। তাঁর কথায়, ‘‘আশিস জোরে কথা পর্যন্ত বলতেন না। খুব খারাপ লাগছে। আশ্চর্য লাগছে।’’
এখন প্রশ্ন, অনুব্রতর ইঙ্গিত করা সেই ‘বখাটে’ কে? সমাজমাধ্যমে ঠিক কী ধরনের অপমানের শিকার হয়েছিলেন আশিস? তদন্তের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা শুরু হয়েছে।





