কলকাতা, ১ জুলাই: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অন্নপূর্ণা যোজনার প্রথম কিস্তির টাকা পৌঁছতে শুরু করল উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি)-এর মাধ্যমে ১ কোটি ৩৪ লক্ষেরও বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে অনুদান পাঠানোর সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তিনি জানান, যাচাই-বাছাইয়ের পর যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ না করায় ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সরকারি টাকা শুধুমাত্র যোগ্য আবেদনকারীরাই পাবেন। আমরা চাই না কোনও অযোগ্য ব্যক্তি এই প্রকল্পের সুবিধা নিন।’’ উপস্থিত উপভোক্তাদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘‘এটা কি ভুল?’’ জবাবে গোটা সভাকক্ষ থেকেই উঠে আসে, ‘‘না’’।
অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্রের ১২ পাতার ফর্ম এবং প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সে প্রসঙ্গও এ দিন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আবেদন যাচাইয়ের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পরই প্রকৃত উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হচ্ছে। ‘‘এটা বিজেপি, মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর টাকা নয়, সরকারের টাকা। তাই এর অপব্যবহারের কোনও সুযোগ নেই,’’ বলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সিএএ এবং এসআইআর ট্রাইব্যুনালে আবেদনকারী যোগ্য ব্যক্তিরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, মূল আদিবাসী সম্প্রদায়-সহ পাহাড়ের বহু মহিলা ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের আওতায় এসেছেন। আগের তালিকায় থাকা পুরুষ উপভোক্তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘কোনও অ-ভারতীয় নাগরিক এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।’’
১২ পাতার আবেদনপত্র নিয়ে সমালোচনার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওই ফর্মে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পের সুবিধাও মিলবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান সচিব মৌমিতা গোদারিয়া-সহ প্রশাসনিক আধিকারিকদের আবেদন যাচাইয়ের কাজে ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।





