কলকাতা, ১ জুলাইঃ নারী সুরক্ষাকে আরও জোরদার করতে একাধিক নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার তিনি জানান, দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যজুড়ে চালু হবে ১১২ জরুরি হেল্পলাইন। লক্ষ্য, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশের ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা। এ জন্য প্রতিটি থানায় একটি করে নির্দিষ্ট পুলিশ গাড়িও রাখা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিজেপি-শাসিত উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট ও মহারাষ্ট্রে অভিযোগ পাওয়ার গড়ে ছয় মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে সেই সময় গড়ে প্রায় তিন ঘণ্টা। তাঁর বক্তব্য, নতুন হেল্পলাইন চালু হলে পুলিশের রেসপন্স টাইম অনেকটাই কমবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
নারী সুরক্ষার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘অভয়া আর নয়। এ ধরনের ঘটনা আর বরদাস্ত করা হবে না।’’ রাজ্যে যাতে আরজি কর, কামদুনি বা পার্ক স্ট্রিটের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। সেই লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে নারী সুরক্ষা কমিশন। কমিশনের চেয়ারপার্সন কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় এবং সদস্য-সচিব হিসেবে রয়েছেন প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক দময়ন্তী সেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, অতীতে নারী নির্যাতনের কোনও ঘটনায় বিচার না পেয়ে থাকলে ভুক্তভোগীরা কমিশনের দ্বারস্থ হতে পারবেন। তাঁর আশ্বাস, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পদক্ষেপও করা হবে।
এ ছাড়াও বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যের প্রতিটি থানায় মহিলা হেল্প ডেস্ক চালুর ঘোষণা করেন তিনি। প্রতিটি মহকুমায় একটি করে মহিলা থানা গড়ে তোলা হবে। মহিলা পুলিশ কর্মীদের নিয়ে ‘দুর্গা স্কোয়াড’ গঠনের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নারী ক্ষমতায়নের পাশাপাশি নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন রাজ্য সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।





