নিজস্ব সংবাদদাতা, ডায়মন্ড হারবার: আরও এক দফা চাপে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সুমিত রায়। ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাসের অভিযোগে ডায়মন্ড হারবার থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে ফের দু’টি পৃথক অভিযোগ জমা পড়েছে। একটিতে অভিষেক, সুমিত-সহ ২২ জনের বিরুদ্ধে, অন্যটিতে ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রাক্তন বিজেপি নেতা অশোক বর্মন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্ণধার প্রবীর হালদার। অভিযোগের সঙ্গে সে সময়ের হামলা, ভাঙচুর ও অত্যাচারের কিছু ভিডিও-সহ নথিও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের।
ডায়মন্ড হারবারের সরিষা হাট এলাকার বাসিন্দা প্রবীর হালদারের অভিযোগ, ২০২১ সালে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে তিনি অসহায় মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিলি করছিলেন। সেই সময় তৃণমূলের তরফে তাঁকে জানানো হয়, ত্রাণ বিলি না করে সেই টাকা তৃণমূলের হাতে তুলে দিতে হবে, তারাই তা বণ্টন করবে। তিনি তাতে রাজি না হওয়ায় তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। প্রবীরবাবুর দাবি, লাঠি-রড নিয়ে বাড়ি ভাঙচুর করা হয়, তাঁকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়, পরিবারের সদস্যদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি। এমনকি থানায় অভিযোগ জানাতে যাওয়ার ‘শাস্তি’ হিসেবে তাঁর বাড়ির সামনে বোমাবাজি ও লুটপাটও হয়েছিল বলে অভিযোগ।
অন্য দিকে, তৎকালীন বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি অশোক বর্মনের অভিযোগ, বিজেপি করার ‘অপরাধে’ তাঁর বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছিল। তাঁকে মারধর করে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয় বলে দাবি তাঁর। গুরুতর আহত অবস্থায় কলকাতায় গিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়েছিল। পরে প্রায় এক বছর ঘরছাড়াও থাকতে হয় তাঁকে। অভিযোগ, সে সময় থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েও কোনও সুরাহা মেলেনি।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে প্রশাসনিক অবস্থান বদলেছে। দুর্নীতি, তোলাবাজি ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’-এর বার্তা মিলতেই তাঁরা নতুন করে অভিযোগ দায়ের করার সাহস পেয়েছেন। পুলিশ সূত্রের খবর, অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হবে।





