কোচবিহার, ৫ নভেম্বরঃ সমাজমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কি কারও সম্মানহানির অধিকার দিতে পারে? মহিলাদের উদ্দেশে কুরুচিকর ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ ঘিরে কোচবিহারে নতুন করে উঠল সেই প্রশ্ন। সমাজমাধ্যমে মহিলাদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে এ বার সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হল সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি। চারজনের নাম উল্লেখ করে কোচবিহার কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সংগঠনের সদস্যরা।
সংগঠনের অভিযোগ, সমাজমাধ্যমে মহিলাদের উদ্দেশে একাধিক আপত্তিকর ও অসম্মানজনক মন্তব্য করা হয়েছে। এই ধরনের মন্তব্য শুধু ব্যক্তিগত মর্যাদায় আঘাত করে না, সমাজে মহিলাদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়েও প্রশ্ন তোলে বলে দাবি মহিলা সমিতির। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, ভার্চুয়াল দুনিয়ায় মহিলাদের হেনস্থার ঘটনাকে কোনও ভাবেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। তাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
এ দিনের কর্মসূচিতে মহিলা সমিতির সদস্যদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন এসএফআই ও ডিওয়াইএফআইয়ের একাংশ কর্মীও। মহিলাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার দাবিতে তাঁরা একজোট হয়ে এই অভিযোগ দায়ের করেন। সংগঠনের প্রতিনিধিদের বক্তব্য, সমাজমাধ্যমে মহিলাদের নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যের প্রবণতা বন্ধ করতে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি। শুধু অভিযোগ গ্রহণ করলেই হবে না, ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও আগাম বার্তা দিয়েছে সংগঠন। মহিলা সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ যদি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়, তা হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা। প্রয়োজনে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ কর্মসূচিও করা হবে।
সমাজমাধ্যমে মহিলাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক বা অসম্মানজনক আচরণ নিয়ে নানা সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোচবিহারের এই অভিযোগ সেই আলোচনাকেই ফের সামনে আনল। এখন অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে। তবে সংগঠনের স্পষ্ট বার্তা, মহিলাদের মর্যাদার প্রশ্নে আপস নয়।





