কলকাতা, ৯ জুলাইঃ পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্তে আরও এক ধাপ এগোল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বৃহস্পতিবার বিশেষ আদালতে প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু, তাঁর ছেলে সমুদ্র বসু, তাঁদের দুই সংস্থা এবং তৎকালীন ডিরেক্টর অব ডিএলপি জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। চার্জশিটে নিয়োগ দুর্নীতির আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ইডির অভিযোগ, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে অন্তত ৩৪০ জন প্রার্থীর কাছ থেকে মাথাপিছু গড়ে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ওই প্রার্থীদের মধ্যে ২৮৪ জনকে নিয়ম বহির্ভূত উপায়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় সুজিত বসুর বিরুদ্ধে প্রায় ২০ কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। শুধু এই একটি মামলাই নয়, গোটা রাজ্যে পুর নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রায় ২৫০ কোটির দুর্নীতি হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইডি।
দীর্ঘদিন ধরেই এই মামলায় ইডির নজরে ছিলেন সুজিত বসু। চলতি বছরের ৬ এপ্রিল, বিধানসভা নির্বাচনের মনোনয়ন জমার দিন থেকেই তাঁকে একাধিকবার তলব করে তদন্তকারী সংস্থা। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত থাকার কারণ দেখিয়ে তিনি সময় চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশ মেনে ভোটপর্ব চলাকালীন হাজিরা এড়িয়েছিলেন বলে তৃণমূল সূত্রের দাবি।
ভোট মিটতেই গত ১ মে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে হাজির হন সুজিত বসু। আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার পর তিনি বেরিয়ে আসেন। পরে ১১ মে ফের তলব করা হলে সেই দিনই গভীর রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ইডি। তদন্তে পাওয়া নথি, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই এ বার আদালতে চার্জশিট পেশ করল কেন্দ্রীয় সংস্থা।
চার্জশিট জমা পড়ায় মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করল। তবে ইডির আনা সমস্ত অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার পরবর্তী শুনানিতে তদন্তকারী সংস্থার দাবি ও অভিযুক্তদের বক্তব্য দুই দিকই বিচার করবে আদালত।





