খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৬ জানুয়ারিঃ বীরভূমের রামপুরহাটে জনসভা শেষে হাসপাতালে গিয়ে সোনালী বিবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার ওপর কেন্দ্রীয় এজেন্সির কথিত অত্যাচারের রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা শোনেন তিনি। শুধু সাক্ষাৎই নয়, পরিবারের অনুরোধে সোনালী বিবির সদ্যোজাত পুত্রসন্তানের নামও রাখেন অভিষেক। শিশুটির নাম দেওয়া হয় ‘আপন’।
মঙ্গলবার রামপুরহাটের সভা শেষ করেই পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী হাসপাতালে যান ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। জানা যায়, পরশু দিন সোনালী বিবি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং সোমবার তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। সংক্রমণের আশঙ্কায় শিশুর খুব কাছে না গেলেও সমস্ত মেডিকেল প্রোটোকল মেনে মাস্ক ও গাউন পরে তিনি সোনালী বিবির সঙ্গে কথা বলেন।
হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে অভিষেক জানান, সোনালী বিবি ও তাঁর মা শিশুটির নাম রাখার জন্য তাঁকে অনুরোধ করেন। প্রথমে তিনি পরিবারের কাউকেই নাম রাখতে বলেন, তবে তাঁদের আবদারে শেষ পর্যন্ত শিশুটির নাম ‘আপন’ রাখেন। নামের ব্যাখ্যায় অভিষেক বলেন, “যেভাবে ওদের পর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, তবু ওরা আমাদের আপন। সেই ভাবনা থেকেই এই নাম।”
সোনালী বিবির মুখে গত কয়েক মাসের অভিজ্ঞতার কথা শুনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, দিল্লি পুলিশ ও বিএসএফ জোর করে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছে। তাঁকে বনে-জঙ্গলে রাত কাটাতে বাধ্য করা হয়েছে, নদী পার করানো হয়েছে এবং শেষে বাংলাদেশে গিয়ে জেল খাটতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সোনালীর স্বামী দানিশ শেখ এখনও বাংলাদেশে আটকে রয়েছেন। এই প্রসঙ্গে অভিষেক জানান, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। আগামী ১৯ তারিখ মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে এবং আইনি পথে দানিশকে দ্রুত দেশে ফেরানোর আশ্বাস দেন তিনি।
হাসপাতাল চত্বর থেকেই বিজেপি ও কেন্দ্র সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “যারা বাংলার মানুষকে কষ্ট দিয়েছে, তাদের জবাব দেবে বাংলা।”





