কলকাতা, ২০ মেঃ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে বাড়ছে অস্বস্তি। একের পর এক বৈঠক হলেও দলের ভিতরে মতভেদ ও অসন্তোষ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর কালীঘাটে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জী এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী। কিন্তু রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দানে তাঁদের সক্রিয় উপস্থিতি না থাকায় দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
দলের একাংশের অভিযোগ, শুধুমাত্র ঘরোয়া বৈঠক করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। মঙ্গলবার কালীঘাটের বৈঠকেও একাধিক বিধায়ক নাকি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, রাস্তায় নেমে আন্দোলন না করলে সংগঠনকে চাঙ্গা করা যাবে না। সেই বৈঠকের পরদিনই তার প্রতিফলন দেখা গেল বিধানসভার সামনে।
বুধবার সকালে ভোট পরবর্তী হিংসা এবং হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিধানসভা চত্বরে ধরনায় বসেন তৃণমূলের একাংশ বিধায়ক ও নেতা। আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত ব্যানার্জি-সহ আরও কয়েকজন নেতা। তাঁরা বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সাধারণ মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগ তোলেন।
তবে এই আন্দোলনে দলের সব বিধায়কের উপস্থিতি ছিল না। তৃণমূলের মোট ৫০ জন বিধায়কের মধ্যে অনেককেই দেখা যায়নি ধরনামঞ্চে। আর সেই অনুপস্থিতি নিয়েই নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের অন্দরে মতপার্থক্য এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ক্রমশ প্রকট হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল এখন সংগঠন পুনর্গঠনের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে। আর সেই পরিস্থিতিতে দলের মধ্যে যে ফাটল তৈরি হয়েছে, বুধবারের আন্দোলন তা আরও স্পষ্ট করে দিল।





