কলকাতা, ৩০ মেঃ রাজ্য তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির নোটিসকে ঘিরে শনিবার রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি মামলার তদন্তে হাজিরার নোটিস দিয়েছে সিআইডি। শনিবার দুপুরে প্রথমে হরিশ মুখার্জি স্ট্রিটের ‘শান্তিনিকেতন’ আবাসনে গিয়ে তাঁকে না পেয়ে পরে কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছন তদন্তকারী আধিকারিকরা। সেখানেই অভিষেকের হাতে নোটিস তুলে দেওয়া হয়।
জানা গিয়েছে, আগামী ১ জুন, সোমবার দুপুর ১২টায় ভবানীভবনে হাজির হতে বলা হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিধায়কদের স্বাক্ষর জাল সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
নোটিস গ্রহণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, তিনি এখনও নোটিসটি বিস্তারিতভাবে পড়েননি। আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে তদন্তে প্রয়োজন হলে তিনি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলেও জানান। একই সঙ্গে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, কোনও তদন্ত বা নোটিস তাঁকে ভয় দেখাতে পারবে না।
অভিষেক বলেন, “আগেও ইডি ও সিবিআই আমাকে একাধিকবার ডেকেছে। আমি প্রতিবারই গিয়েছি এবং সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। তদন্তে সহযোগিতা করেছি। কিন্তু আমি কোনও চাপের কাছে মাথা নোয়ানোর মানুষ নই। যতই নোটিস পাঠানো হোক বা ভয় দেখানো হোক, আমাকে দমানো যাবে না।”
অভিষেকের এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “এখনও অহংকার যায়নি। এবার হাওয়া থেকে মাটিতে নামা উচিত।”
অন্যদিকে, একই মামলায় শনিবার বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতেও নোটিস পৌঁছে দিয়েছে সিআইডি। কুণাল ঘোষ বলেন, তিনি আইনি প্রক্রিয়া মেনেই সবরকম সহযোগিতা করবেন। তবে তাঁর দাবি, এই মামলায় তদন্তের শুরুতেই বিধানসভার প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত ছিল।
উল্লেখ্য, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রস্তাবপত্রে তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরই তদন্ত শুরু করে সিআইডি। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই একের পর এক বিধায়ক ও দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে পৌঁছচ্ছে তদন্তকারী সংস্থা।





