বীরভূম, ৪ এপ্রিল: বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বীরভূমের হাসনে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে জনসভা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের সভা থেকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই নির্বাচন শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে জেতানোর লড়াই নয়, বরং এটি প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের নির্বাচন।
সভামঞ্চ থেকে অভিষেক বলেন, “যাঁরা গরিব মানুষকে যখন খুশি লাইনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের উচিত শিক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে।” তিনি দাবি করেন, বীরভূম জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস ১১-০ ফল করবে, যা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। পাশাপাশি হাসন কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধান বাড়ানোর লক্ষ্যও বেঁধে দেন তিনি। তাঁর কথায়, “আগেরবারের ব্যবধান ছাপিয়ে ৫০ হাজারের বেশি ভোটে জিততে হবে।”
এদিন বিজেপি প্রার্থীকে কটাক্ষ করে একাধিক অভিযোগ তোলেন অভিষেক। তিনি দাবি করেন, ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও দুষ্কৃতিমূলক কাজের অভিযোগ রয়েছে। এমন কাউকে জেতালে এলাকায় অশান্তি বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি ‘কয়লা দুষ্কৃতী’ ইস্যু তুলে বিজেপিকে নিশানা করেন তৃণমূল নেতা।
কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরুদ্ধেও সরব হন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন। রান্নার গ্যাস থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কেন্দ্র মানুষের উপর চাপ বাড়িয়েছে, আর তৃণমূল সরকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।
সভায় উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, “যাঁরা আজ এখানে এসেছেন, তাঁরা ভোটের দিন লাইনে দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে জেতানোর সিদ্ধান্ত নিয়েই এসেছেন।” পাশাপাশি বিজেপিকে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়নের নিরিখে তুলনা করতে প্রস্তুত তৃণমূল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের আক্রমণাত্মক প্রচার তৃণমূল কর্মীদের আরও উজ্জীবিত করবে এবং হাসন কেন্দ্রের লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলবে।





