আব্দুল হাই, বাঁকুড়াঃ বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের শিমুলিয়া গ্রামের এক খুদে শিল্পীর কণ্ঠে উঠে এল সময়ের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রশ্ন। এসআইআর ও এনআরসি নিয়ে গজল গেয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে রাজখামার হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সেখ তামান্না। বয়সে ছোট হলেও তার গানে ধরা পড়েছে গভীর অনুভব, সচেতন ভাবনা এবং সাহসী বার্তা যা ইতিমধ্যেই মন কেড়েছে বহু মানুষের।
গজলের সুরে এনআরসি নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরে তামান্না খুব সহজেই শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। সামাজিক মাধ্যমে তার গান ছড়িয়ে পড়তেই প্রশংসার বন্যা বইতে শুরু করে। অনেকেই বলছেন, এত অল্প বয়সে এমন সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সচেতনতা সত্যিই বিরল। কেউ কেউ আবার মনে করছেন, এই গান শুধু শিল্পের প্রকাশ নয়, বরং নতুন প্রজন্মের সামাজিক দায়বদ্ধতার এক শক্তিশালী উদাহরণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই গান তামান্নার নেশা। পরিবারের সহযোগিতায় পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত রেওয়াজ করে সে। তবে সাম্প্রতিক এই গজল তার শিল্পীসত্তাকে নতুন পরিচিতি দিয়েছে। গ্রামের মানুষজন গর্বের সঙ্গে বলছেন, তামান্না প্রমাণ করেছে শিল্পের মাধ্যমে সমাজের কথা বলা যায়, প্রশ্ন তোলা যায়, আবার মানুষকে ভাবতেও বাধ্য করা যায়।
শিক্ষকরাও তামান্নার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার এই প্রয়াস আগামী দিনে আরও অনেক পড়ুয়াকে অনুপ্রাণিত করবে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সাংস্কৃতিক মঞ্চে তামান্নার প্রতিভা তুলে ধরার পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিমুলিয়া গ্রামের এই খুদে শিল্পী আজ শুধু একজন গায়ক নয়, বরং সাহসী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। তার গজল নতুন প্রজন্মের ভাবনার দিগন্ত খুলে দিচ্ছে এমনটাই মনে করছেন এলাকাবাসী।





