আবহাওয়া আইপিএল-2025 টাকা পয়সা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ার বাজার মিউচুয়াল ফান্ড আধ্যাত্মিক অন্যান্য

---Advertisement---

৫৮ বছরে পা দিলেন এ আর রহমান, দিলীপ কুমার থেকে আল্লাহ রাখা রহমান হওয়ার নেপথ্যে আছে আর কোন কারণ ? জানুন

Published on: January 6, 2026
---Advertisement---

খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৬ জানুয়ারিঃ আজ ৬ জানুয়ারি, ৫৮ বছরে পা দিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা সঙ্গীতশিল্পী, অস্কারজয়ী এ আর রহমান। সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে তিনি শুধুই একজন গায়ক বা সুরকার নন, বরং এক আবেগ, এক অনুভূতির নাম। তবে তাঁর সঙ্গীতজীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে ধর্ম পরিবর্তন ও সুফিজম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েও বারবার চর্চা হয়েছে।

এ আর রহমানের আসল নাম দিলীপ কুমার রাজাগোপাল। তিনি মাদ্রাসে এক হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতের প্রতি তাঁর গভীর টান ছিল। জীবনের এক পর্যায়ে এসে তিনি নিজের ধর্ম পরিবর্তন করেন এবং ইসলাম ধর্মের সুফি ধারাকে গ্রহণ করেন। কেন এই সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও রহমান নিজেই একাধিকবার তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

অতীতে একটি পডকাস্টে এ আর রহমান জানিয়েছিলেন, তিনি কোনও একটি ধর্মের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তাঁর কথায়, “আমি সব ধর্মের ফ্যান। আমি ইসলাম পড়েছি, হিন্দুত্ববাদ পড়েছি, খ্রিষ্টান ধর্ম নিয়েও পড়েছি।” অর্থাৎ বিভিন্ন ধর্মের দর্শন ও বিশ্বাস সম্পর্কে জানার আগ্রহ তাঁর বরাবরই ছিল। তবে যেটা তাঁকে কষ্ট দেয়, তা হল ধর্মের নামে হিংসা ও ঘৃণা। রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমার সমস্যা ধর্মের নামে অন্য মানুষকে মারা এবং কষ্ট দেওয়ায়।”

সঙ্গীতকেই তিনি মানবতার সবচেয়ে বড় মাধ্যম বলে মনে করেন। রহমানের কথায়, “আমি মানুষকে বিনোদন দিতে ভালবাসি। যখন আমি পারফর্ম করি, তখন মনে হয় আমি কোনও মন্দিরে রয়েছি। সবাই একসঙ্গে সেই অনুভূতি ভাগ করে নিচ্ছে।” বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ একত্রিত হয়ে সঙ্গীতের মাধ্যমে একাত্ম হয়ে ওঠেন এই অভিজ্ঞতাকেই তিনি আধ্যাত্মিক বলে মনে করেন। তাঁর মতে, সঙ্গীত এমন এক শক্তি, যা সমস্ত বিভেদ মুছে দেয়।

তবে এত ধর্মের মধ্যে কেন সুফিজম? এই প্রশ্নের উত্তরে রহমান বলেন, সুফিজম তাঁকে আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির পথ দেখিয়েছে। “মৃত্যুর আগেই মৃত্যু এই দর্শনই সুফিজম। এখানে মোহ, ঘৃণা, হিংসা, অহংকার ত্যাগ করতে হয়। নিজের ভিতরের প্রতিচ্ছবি দেখার সুযোগ পাওয়া যায়,” বলেন রহমান। তাঁর মতে, আধ্যাত্মিকতা কোনও লেবেল নয়, বরং তা অনুশাসন, সংযম ও মানবতার শিক্ষা।

রহমানের বায়োগ্রাফি ‘এ আর রহমান: দ্য স্পিরিট অফ মিউজিক’ বইতেও তিনি স্পষ্ট করেছেন, তাঁকে কেউ জোর করে ধর্ম পরিবর্তন করায়নি। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়, নিজের অন্তরের ডাক শুনেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস, প্রতিটি ধর্মের মূল কথা এক ভাল কাজ করা ও মনুষত্বকে লালন করা।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯৯২ সালে ‘রোজা’ ছবির মাধ্যমে প্লেব্যাক গায়ক ও সুরকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এ আর রহমান। এরপর আর তাঁকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সঙ্গীতজগতে একের পর এক মাইলফলক স্থাপন করেছেন তিনি। ২০০৯ সালে ‘স্লামডগ মিলিয়নেয়ার’ ছবির ‘জয় হো’ গানের জন্য অস্কার জয় তাঁর কেরিয়ারের স্বর্ণমুকুট। আজও সঙ্গীত ও মানবতার সেতুবন্ধনে এ আর রহমান এক অনন্য নাম।

Manirul Hoque

Manirul Hoque is working as Sub Editor. Presently he is attached with Khaboriya24 Online News Portal. Manirul is involved in Copy Editing, Uploading in website.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment