বীরভূম, ২৯ জুলাইঃ ভোররাতের অভিযানে ঘিরে ফেলা হয় গোটা বাড়ি। তারপর একের পর এক আলমারি খুলতেই সামনে আসে থরে থরে সাজানো নগদ টাকা। টাকা গোনার জন্য বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় একাধিক কাউন্টিং মেশিন, প্রিন্টার এবং বড় আকারের ট্রাঙ্ক। বুধবার বীরভূমের মহম্মদবাজারে এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মনির মণ্ডলের বাড়িতেই এই তল্লাশি অভিযান চলছে। ভোর থেকেই বিশাল পুলিশবাহিনী বাড়ি ঘিরে ফেলে। পরে বাড়ির ভিতরে শুরু হয় তল্লাশি। প্রাথমিকভাবে আলমারি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে খবর। যদিও উদ্ধার হওয়া অর্থ বা অন্যান্য সামগ্রীর পরিমাণ সম্পর্কে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মনির মণ্ডল একসময় সরকারি বাসচালক ছিলেন। পরে সেই চাকরি ছেড়ে টুলু মণ্ডলের ব্যবসায় যুক্ত হন। অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই তাঁর জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসে। মহম্মদবাজারের ডেউচা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হয় বহুতল প্রাসাদোপম বাড়ি।
এলাকায় কানাঘুষো, ওই বাড়ি থেকে কয়েক কোটি টাকার নগদ অর্থ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনার গয়না উদ্ধার হয়েছে। যদিও এই তথ্যের সরকারি কোনও নিশ্চিতকরণ এখনও মেলেনি। জেলা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তল্লাশির কাজ তদারকি করছেন।
তদন্তকারীরা উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থের উৎস, আর্থিক লেনদেন এবং এর সঙ্গে কোনও বেআইনি পাথর বা বালি ব্যবসার যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। টুলু মণ্ডলের সঙ্গে এই অর্থের কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের অন্যতম বিষয়। তল্লাশি শেষ হলে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানাবে বলে প্রশাসন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।





