নয়াদিল্লি, ১ মে: হজ যাত্রীদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানোর অভিযোগে নতুন করে বিতর্কের মুখে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রকের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের হজে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক পুণ্যার্থীকে অতিরিক্ত ১০,০০০ টাকা জমা করতে হবে। আগামী ১৫ মে-র মধ্যে এই অর্থ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক স্তরে বিমানের জ্বালানির খরচ বেড়েছে। তারই প্রভাব পড়েছে হজ যাত্রার মোট ব্যয়ের উপর। তাঁর দাবি, উড়ান সংস্থাগুলি প্রথমে পুণ্যার্থী পিছু ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার অতিরিক্ত নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে তা কমিয়ে প্রায় ১০০ ডলারে আনা সম্ভব হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে। কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ী অভিযোগ করেছেন, যাত্রার ঠিক আগে এই ধরনের অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা অন্যায্য এবং পুণ্যার্থীদের সঙ্গে অবিচার। তাঁর প্রশ্ন, আগে থেকেই সিদ্ধান্ত জানা থাকলে তা আগেই জানানো হল না কেন।
শুধু রাজনৈতিক মহল নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, বহু মানুষ জীবনের সঞ্চয় দিয়ে হজে যান, ফলে অতিরিক্ত এই ব্যয় তাঁদের উপর বড় চাপ তৈরি করবে।
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির যুক্তি থাকলেও, সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





